
বাদুড়িয়া: ‘কালীঘাট তৃণমূল’ আর ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের লড়াই এবার পৌঁছে গেল দলের নিচুতলায়ও। পঞ্চায়েত সমিতি কার দখলে থাকবে, তাই নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধল। আর সেই দ্বন্দ্বের জেরেই উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতিতে ঋতব্রতপন্থী সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। অনাস্থা ভোটে ঋতব্রতপন্থী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে সরাল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল।
বাদুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট ৪১টি আসন। তার মধ্যে ৪০টি তৃণমূলের দখলে এবং একটি বিজেপির দখলে। এতদিন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন কুহেলিকা পারভিন। তিনি বাদুড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটনের ঘনিষ্ঠ। এই কুহেলিকাকে অপসারণের জন্য তৃণমূলের অন্য পঞ্চায়েত সমিতির মেম্বাররা অনাস্থা আনলেন। কারণ, বাদুড়িয়ার তৃণমূল বিধায়ক বুরহানুল মুকাদ্দিম ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা-সহ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কুহেলিকা পারভিন সকলেই এখন ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সেই কারণেই এই অনাস্থা আনলেন কালীঘাটপন্থীরা সদস্যরা। ঋতব্রতপন্থী বিধায়ক ঘনিষ্ঠকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে না রাখতে এই অনাস্থা ভোটে ২৭ জন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য উপস্থিত ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে অনাস্থা ভোটে হেরে যান কুহেলিকা।
কী বলছেন কালীঘাটপন্থী সদস্যরা?
যাঁরা অনাস্থা আনলেন, সেই সব পঞ্চায়েত সমিতির কালীঘাটপন্থী তৃণমূল সদস্যের বক্তব্য, “দুর্নীতিগ্রস্ত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে আমরা রাখব না। তাই অনাস্থা আনা হয়েছে। এরপর আস্থা ভোটের মাধ্যমে আমাদের তৃণমূলেরই কোনও সৎ পঞ্চায়েত সমিতির মেম্বারকে আমরা সভাপতি করব। এবং এই সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ আমরা প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব।”
অনাস্থা প্রস্তাবে অপসারিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কুহেলিকা পারভিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ফোন করলেও তিনি ফোন তোলেননি। তবে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন বলেন, “এ ব্যাপারে কিছু আমি জানি না।”
কী বলছে বিজেপি?
বাদুড়িয়া বিধানসভার বিজেপির ইনচার্জ সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “আজকে তৃণমূল তৃণমূলের বিরুদ্ধেই অনাস্থা আনছে। খেয়োখেয়ি করে এখন অনাস্থা আনছে। মানুষের উন্নয়নের দিকে নজর রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে বিডিওকে।”