
বরানগর: ভোটের মরশুমে তপ্ত বরানগর। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করায় এক সিভিক পুলিশ কর্মীকে মারধর ও হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, বরানগর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বনোরিনি আবাসনের সামনে কর্তব্যরত ছিলেন সিভিক পুলিশ কর্মী গোবিন্দ হাড়ি। অভিযোগ, সেই সময় বিজেপি কর্মী সানি দে ও তাঁর সঙ্গীরা সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। সিভিক পুলিশ কর্মী গোবিন্দ হাড়ি প্রতিবাদ জানালে বিজেপি কর্মীরা তাঁর ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। মারধরের জেরে ওই পুলিশ কর্মীর হাত ভেঙে যায় বলে দাবি। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সরব হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরা লাগামহীনভাবে আইন হাতে তুলে নিচ্ছে এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদেরও আক্রমণ করতে পিছপা হচ্ছে না। বরানগরের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ বর্ধন বলেন, “ভোটের কয়েকদিন আগে শাসকদলের কয়েকজন কর্মী বিরোধী দলের কর্মীর দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে, এটা হয়তো বিরল। ওদের এত সাহস, ক্ষমতা! যদি মদ্যপ থাকে, তার জন্য থানা ছিল। মেরে হাত ভেঙে দেওয়ার সাহস কীভাবে আসে!”
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ এবং অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী সানি দে। তাঁদের দাবি, এটি তৃণমূলের সাজানো নাটক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ। বিজেপি কর্মী সানি দে বলেন, “উনি যে কীভাবে আক্রান্ত, সেটা বলতে হবে। আমার ওপরেই ৫-৭ জন হামলা চালিয়েছে।”
অভিযোগের ভিত্তিতে বরানগর থানায় তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও আশপাশের এলাকার সাক্ষীদের বয়ান খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।