
উত্তর ২৪ পরগনা: ভোটের আগে মতুয়া গড়ে বিজেপিতে ভাঙন। বাগদার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর হাত ধরে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিল ৬১ জন। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মধুপর্না ঠাকুর ও রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুরের হাত থেকে পতাকা নিয়ে গাড়াপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬১ জন বিজেপি নেতা কর্মী। শুক্রবার যোগ দিল তৃণমূল কংগ্রেসে।
তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদানের পরে তাঁরা জানিয়েছেন, এসআইআর-এর নাম করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়ন দেখে তারা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করেছে।
এই যোগদানের ফলে তৃণমূল কংগ্রেস বাগদাদের শক্তিশালী হল বলে জানিয়েছেন বাগদার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর । তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখে ও এসআইআর-এ সাধারণ মানুষের ভোট কেটে দেওয়ার কারণে বিজেপি ছেড়ে প্রতিদিনই তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করছে।”
এই বিষয়ে বাগদা বিজেপির চার নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সুমন অধিকারী জানিয়েছেন, গৌতম ভট্টাচার্য কোনওদিন বিজেপি করেননি । তিনি তৃণমূলই করতেন। কোনওদিন বিজেপির কার্যক্রমে দেখা যায়নি তাঁকে । তাঁর কথায়, “৬১জন কেন, ১জন বিজেপি কর্মীও ওখানে নেই।”
প্রসঙ্গত, মতুয়াদের বড় অংশ গত নির্বাচনগুলোতে বিজেপি-কে সমর্থন করলেও, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাগদার বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৫০টি বিজেপি সমর্থক পরিবার তৃণমূলে যোগ দেয়। এই এসআইআর প্রক্রিয়া তৃণমূলের তরফ থেকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, এটি এনআরসি প্রথম ধাপ। তাতে নাগরিকত্ব হারানোর ভয় পাচ্ছেন মতুয়ারা। তারই মাঝে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের একটি বক্তব্য, যেখানে তিনি বলেছিলেন, অনুপ্রবেশকারী রোখার বৃহত্তর স্বার্থে যদি কিছু বৈধ ভোটারের নাম সাময়িকভাবে বাদও যায়, তবে তা ‘ত্যাগ’ হিসেবে দেখা উচিত। তাতে স্বাভাবিকভাবেই মতুয়াদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। উল্লেখ্য, এবার শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমাকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। এবার সেখানে ননদ-বৌদির লড়াই। সেক্ষেত্রে আবারও ভোটের মুখে বিজেপিতে ভাঙন রাজনৈতিক দিক থেকে বিশেষ ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।