Fake Groom Arrested: মানিক সেজে কমপক্ষে ১৫ বিয়ে মনিউরের
Moniur Rahman Marriage Fraud: নৈহাটির ওই তরুণী বলেন, "একটি ম্যাট্রিমনি সাইটের মাধ্যমে মানিকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ৩ মাসের পরিচয়ে বন্ধুত্ব গভীর হয়। তারপর ধীরে ধীরে ইমোশনালি আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। টাকা চায়। গয়না চায়। আমি তাকে নগদ ৮৫ হাজার টাকা দিয়েছি। সোনার ব্রেসলেট নিয়েছে। আমাকে বলত, আমরা শীঘ্র বিয়ে করব।"

নৈহাটি: এ যেন বাস্তবের ‘ঠগিনী’। মেয়ের বদলে শুধু ছেলে। ‘ঠগিনী’ সিনেমায় বিয়ের নামে ছেলেদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন সন্ধ্যা রায় অভিনীত চরিত্র। আর উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে ধরা পড়লেন পুরুষ ‘ঠগিনী’। নাম ভাঁড়িয়ে কমপক্ষে ১৫টা বিয়ে করেছেন। মানিক রায় নাম নিয়ে একের পর এক মহিলার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন মনিউর রহমান নামে ওই ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ধরা পড়ে গেলেন। নৈহাটির এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মনিউরকে গ্রেফতার করল নৈহাটি থানার পুলিশ।
কীভাবে প্রতারণা করতেন মনিউর রহমান?
একটি ম্যাট্রিমনি সাইটে মানিক রায় নামে নিজের প্রোফাইল খুলেছিলেন মনিউর রহমান। ওই প্রোফাইল থেকে বিভিন্ন মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরিচয় ঘনিষ্ঠ হলে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। তারপরই শুরু হত খেলা। অভিযোগ, আশীর্বাদের সময় টাকা নিতেন। এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। এবং মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে গয়নাও হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ। নিজেকে একটি বড় গাড়ি কোম্পানির পদস্থ কর্তা বলে পরিচয় দিতেন মনিউর। বলতেন, তাঁর বার্ষিক বেতন দেড় কোটি টাকা।
কীভাবে ধরা পড়লেন মনিউর?
নৈহাটির ওই তরুণী বলেন, “একটি ম্যাট্রিমনি সাইটের মাধ্যমে মানিকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ৩ মাসের পরিচয়ে বন্ধুত্ব গভীর হয়। তারপর ধীরে ধীরে ইমোশনালি আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। টাকা চায়। গয়না চায়। আমি তাকে নগদ ৮৫ হাজার টাকা দিয়েছি। সোনার ব্রেসলেট নিয়েছে। আমাকে বলত, আমরা শীঘ্র বিয়ে করব।”
তিনি কখন বুঝতে পারলেন যে প্রতারণা করা হচ্ছে তাঁর সঙ্গে? তরুণী বলেন, “একদিন আমাকে বলে, আমার মামা মারা গিয়েছে। আমার কাছে টাকা চায়। একজনের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলে। জানায়, ওই ব্যক্তি মুম্বইয়ে থাকে। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজ নিয়ে দেখি, তিনি বর্ধমানে থাকেন। আমি তখন সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে দেখি, একাধিক মেয়ে ২ মাস কথা বলেছে। তারপর আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। আমি ওই মেয়েগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করি। তখনই প্রতারণার কথা জানতে পারি। এগুলো জানার পর তাঁকে আমাদের বাড়িতে আসতে বলি। জানাই, আমাদের বাড়িতে একজন সিনিয়র রয়েছেন। তোমাকে সোনার চেন আশীর্বাদ করবেন। এটা শুনেই আমাদের বাড়ি আসে। তার আগেই আমি পুলিশকে সব ঘটনা জানিয়ে রাখি। আমাদের বাড়িতে আসতেই ধরা পড়ে যায়।”
তরুণী জানান, তাঁকে কখনও মনিউর নিজের পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করাননি। ফোনে নিজেই বাবা পরিচয় দিয়ে কথা বলতেন। মনিউর কমপক্ষে ১৫টি বিয়ে করেছেন বলে জানতে পেরেছেন ওই তরুণী। তরুণীর মাও বলেন, “মনিউর নিজেই বাবা সেজে আমাদের সঙ্গে কথা বলত। আমার মেয়েকে ফোনে লক্ষ্মী মা বলত। আমরা বুঝতে পারিনি।” মনিউরের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ধৃত মনিউর রহমানধৃত মনিউরের বাড়ি কলকাতার বউবাজার এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন মনিউর রহমান। প্রতারণা, ধর্ষণ এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে নৈহাটি থানার পুলিশ।
