Gaighata Encounter: বন্দুক ছিনিয়ে পুলিশকে গুলি! বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটাতেও এনকাউন্টার, মৃত্যু ধর্ষণে অভিযুক্তের

Gaighata Encounter News Update: পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রহ্লাদ দাসকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে ফেরার সময় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাল্টা পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় প্রহ্লাদ দাসের। গত জুলাই মাসেও ঠিক একইভাবে বন্দুক ছিনিয়ে গুলি করে পালানোর সময় এনকাউন্টার করা হয়েছিল অভিযুক্তের।

Gaighata Encounter: বন্দুক ছিনিয়ে পুলিশকে গুলি! বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটাতেও এনকাউন্টার, মৃত্যু ধর্ষণে অভিযুক্তের
মৃত অভিযুক্তImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Oct 27, 2026 | 8:48 AM

গাইঘাটা: বারুইপুরের পর এবার গাইঘাটায় ‘এনকাউন্টার’ (Gaighata Encounter)। মৃত্যু হয়েছে ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের। পুলিশের দাবি, গভীর রাতে প্রহ্লাদ দাসকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে ফেরার সময় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্ত। তারপর পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। সেইসময় আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় প্রহ্লাদ দাসের। গত জুলাই মাসেও ঠিক একইভাবে বন্দুক ছিনিয়ে গুলি করে পালানোর সময় এনকাউন্টার করা হয়েছিল বারুইপুরে ধর্ষণে অন্যতম অভিযুক্তের। তিন মাসের মাথায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল গাইঘাটাতেও। উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, এই ধরনের ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। পুলিশকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশও দিয়েছিলেন।

গত রবিবার সকালে গাইঘাটা থানা এলাকার একটি বাড়ির পিছন থেকে নাবালিকার অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নাবালিকার মা অভিযোগ করেছিলেন,  গতকাল রাতে মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। মেয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করছিল। কিন্তু, কিছুক্ষণ পর থেকে  তার আর খোঁজ পাননি। তারপরই রবিবার সকালে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। মায়ের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। প্রহ্লাদ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। এরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে গাইঘাটা থানার পুলিশ।

পুলিশ কী বলছে?

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আত্মরক্ষার্থে এনকাউন্টার করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে, রাতে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ করতে যাওয়ার কারণ যাতে মানুষের মধ্যে জানাজানি না হয়, আর নির্বিঘ্নে পুনর্নির্মাণের কাজ যাতে সম্পন্ন হয়। হঠাৎ পুলিশের থেকে বন্দুক ছিনিয়ে একের পর এক গুলি চালাতে শুরু করে ওই অভিযুক্ত। তারপরই আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনায় জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অভিযুক্তকে। তারপর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে।

এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগেও ঘটনা ঘটেছে। খুনি পালাচ্ছিল। এনকাউন্টার হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে। এখানেও হয়েছে। বিচারের সামনে সবাইকে আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই হবে। পুলিশকে মানুষকে ন্যায় দিতে হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে ভুলে গিয়েছে। ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে মানুষকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে। ভয় তো এত সহজে কেউ পায় না। কারণ আইন-কানুন ব্যবস্থা বহু বছর বাংলায় নেই। কিন্তু আইন-কানুনের রাজত্ব যদি প্রতিষ্ঠা হয়। তাহলে সবাই ভয় পাবে। সতর্ক হবে। দুটো জিনিস করতে হবে। যেমন সমাজে সুবিচার আনা, পরিবেশ ঠিক করা, যাতে এটা না করে লোকে। আর করলে তার যে সাজা হবে, তা যেন উদাহরণ হিসেবে থাকে।”

বারুইপুরের ঘটনা

বারুইপুরের ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধের পুর্ননির্মাণের জন্য পুলিশ রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে সূর্যপূরে যায়। রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত আচমকাই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায়। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। তাকে  বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে, অভিযুক্তকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “ধর্ষকদের সকালে জমা করব ও বিকেলে খরচ করব। উত্তর প্রদেশ পারলে, অসম পারলে, মহারাষ্ট্র পারলে, ওড়িশা পারলে আমরাও পারব।” তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল এই ধরনের ঘটনায় কোনওভাবেই দোষীদের রেয়াত করা হবে না। নারী সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বিজেপি সরকার। পুলিশ প্রশাসনের তরফে বারবার বার্তা দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us