
মধ্যমগ্রাম : রাত তখন ১০টা বা ১০টা ১৫। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। মধ্যমগ্রামের মুজিবর রহমান রোডে তখন খুব একটা জনপ্রাণী নেই বললেই চলে। ঠিক সেইসময় গাড়িতে করে ভাড়ার ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। ঠিক তখনই উল্টো দিক থেকে একটা সাদা গাড়ি এসে দাঁড়াল তাঁদের গাড়ির সামনে। তারপরই আরেকটা বাইক। মুহূর্তের মধ্যেই পরপর গুলি। ঠিক যেন সিনেমার ক্রাইম সিন। কিন্তু, কেন চন্দ্রনাথকে ওই জায়গাতেই খুন করা হল? পুলিশের হাতে উঠে এল নয়া তথ্য।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, চন্দ্রনাথের গাড়ির অভিমুখ ছিল তাঁর ফ্ল্যাটের দিকে। গাড়িটি প্যাকেজি সংস্থার গেটের কাছে পৌঁছতেই বিপরীত দিক থেকে এসে আরেকটা গাড়ি এসে চন্দ্রনাথের পথ আটকায়। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, যে রাস্তায় ঘটনাটি ঘটেছে, তার আশেপাশে সরু গলি রয়েছে। তাছাড়া, ওই রাস্তাও খুব নির্জন। তাই সিসিটিভিও বেশি নেই। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সরু রাস্তায় পরিকল্পনা করেই চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ বন্ধ করা হয়। যাতে স্করপিও গতি বাড়িয়ে যেতে না পারে।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, যে কারখানার সামনে গুলি চলেছে ঠিক সেই জায়গায় কোনও সিসিটিভি নেই। ফলে আততায়ী ক’জন, তাদের বিবরণ কী তা পাওয়া যাবে না। যে সময় হত্যা করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে ঠিক সেইসময় মুষলধারায় বৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তাঘাট খালি ছিল। সেই সুযোগকে ব্যবহার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, গুলি চালানোর পর বাদু রোড ধরে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ওই রোড ধরে গেলে প্রথমে খড়িবাড়ি, তারপর শাসন, সেখান থেকে বসিরহাটও খুব দূরত্বে নয়। সেক্ষেত্রে সীমান্তে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। সেক্ষেত্রে উঠে আসছে বাংলাদেশ যোগ।
খুনে উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। ৭.৬৫ বোরের সেমি অটোমেটিক পিস্তল ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের। একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।