
উত্তর ২৪ পরগনা: বিয়ের দু’বছরের মধ্যেই গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু! সন্তানের জন্য খাবার আনতে ঘরে ঢুকে হঠাৎই অসুস্থ, পরে হাসপাতালে মৃত্যু। স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের কল্যাণনগরে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম শম্পা দাস।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন নিজের নয় মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে বাপের বাড়িতে দেখা করতে এসেছিলেন শম্পা। অভিযোগ, সেই সময় স্বামী মৃত্যুঞ্জয় তাঁকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তিনি যেন আর কোনওদিন শ্বশুরবাড়িতে না যান। সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থেকে যান শম্পা। কিন্তু শিশুর খাবার আনতে ভুল হয়ে যাওয়ায়, তা আনতে ফের শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি।
সেখানে গিয়ে বাড়ির প্রধান দরজায় তালা ঝুলতে দেখেন শম্পা। কোনওমতে ঘরে ঢুকে সন্তানের খাবার নিয়ে আসার পরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাতুলিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ, একই এলাকায় বাপের বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও শম্পার পরিবারের কাউকে এই অসুস্থতা বা হাসপাতালে ভর্তির খবর জানানো হয়নি।
আজ সকালে বেসরকারি হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শম্পা। মৃতার স্বামী মৃত্যুঞ্জয় দে এবং শাশুড়ি সাধনা দে-র বিরুদ্ধে রহড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শম্পার বাপের বাড়ির সদস্যরা। শম্পার মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করার জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।