
আজ আবার সন্দেশখালি যাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি-র পাঁচ বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, বিশাল লামা, অগ্নিমিত্রা পল, সুমিতা সিনহা রায় ও তাপসী মণ্ডলরাও রয়েছেন শুভেন্দুর সঙ্গে। সন্দেশখালিতে ১৪৪ ধারা জারির উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে সন্দেশখালি যেতে বাধা নেই বিজেপি বিধায়কদের। অপরদিকে, সন্দেশখালির পথে রওনা দিয়েছেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মহিলা ব্রিগেড।
শুভেন্দু অধিকারী গ্রামে প্রবেশ করতেই বেরিয়ে এলেন বাড়ির মহিলারা। নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানালেন বিরোধী দলনেতা। একই সঙ্গে বরণ করে নিলেন তাঁকে। কেউ কেউ আবার পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন। শুভেন্দু তাঁদের কাছে জানতে চাইলেন, তাঁরা এখন কেমন আছেন? লড়াই চালানোর বার্তাও দিলেন বিরোধী দলনেতা।
সন্দেশখালি যেতে বাধা নেই রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হীরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। শর্তসাপেক্ষে শুভেন্দু ঢুকতে পারবেন সন্দেশখালি। শুভেন্দুর সঙ্গে কেবল যেতে পারবেন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
সন্দেশখালি পৌঁছতেই ফুল ছড়িয়ে, শাঁখ বাজিয়ে বরণ শুভেন্দু অধিকারীকে। মানুষের ভিড়ে কার্যত এগোতে পাচ্ছেন না তিনি। টোটোয় চড়ে গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছবেন বিরোধী দলনেতা। শুনবেন অভাব অভিযোগ
আদালতের অনুমতি পেতেই বৃন্দা কারাট ও সিপিএম-এর মহিলা ব্রিগেডও যাচ্ছেসন্দেশখালিতে। ধামাখালির ফেরীঘাট থেকে তাঁরাও নৌকা করে যাচ্ছেন সন্দেশখালিতে। বৃন্দা কারাত ও আরও এক মহিলা সদস্য যাচ্ছেন সেখানে।
আদালতের অনুমতি পেতেই শঙ্কর ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারী রওনা দিলেন সন্দেশখালির পথে। বিরোধী দলনেতা বললেন, “এটি সংবিধানের জয়।” আর শুভেন্দু সন্দেশখালির পথে যেতেই উচ্ছাসে ফেটে পড়লেন বিজেপি কর্মীরা।
আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর সংবাদ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, “আমরা আইন মেনেই সন্দেশখালি যাব। আদালত অনুমতি দেওয়ার পরও পুলিশ কীভাবে আটকায়? আসলে ওদের মেরুদন্ডও আর নেই।”
কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারী ও শঙ্কর ঘোষকে সন্দেশখালি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল। প্রধান বিচারপতি এই দুই বিজেপি বিধায়ককে সেখানে যেতে অনুমতি দিয়েছেন।
সন্দেশখালির মাটিতে বসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুললেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, “শাহজাহান সিপিএম-এর প্রোডাক্ট। এর আগে বৃন্দা কারাট শাহজাহানের সঙ্গে মিটিং করে গিয়েছেন। বামেদের নিচু তলার কর্মীরাও বিজেপি-কে ভরসা করে।”
বাধা পেতেই ধামাখালিতে অবস্থান বিক্ষোভে শুভেন্দু অধিকারী। রাস্তাতেই বসে পড়েন শুভেন্দু। বিক্ষভ দেখাতে থাকেন। সরব হন তৃণমূল সরকার ও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধ।
ধামাখালির পথে বাধা পেতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি বিধায়কদের সামনে কার্যত বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুলিশ। কেন তাঁদের সন্দেশখালি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না প্রশ্ন তোলেন অগ্নিমিত্রা পাল, শুভেন্দু অধিকারী। তবে কোনও উত্তরই দেননি কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক। তাঁদের সামনে কার্যত ‘পাহাড়’ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন ‘স্পিকটি নট’ হয়ে।
শুভেন্দু অধিকারীকেও ধামাখালীতে আটকায় পুলিশ। বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, এক ঘণ্টা অপেক্ষা করবেন। তারপর রওনা দেবেন কোর্টের উদ্দেশ্যে। ‘আদালতের নির্দেশেই সন্দেশখালিতে এসেছি’, এমনটাই জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
ধামাখালিতে বাধা পুলিশের। পুলিশ আধিকারিক জানালেন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ঢুকতে দেওয়া হল না তাঁদের। বাধা পাওয়ার পর বৃন্দা জানিয়েছেন, “কয়েকদিন আগে সন্দেশখালির মহিলারা আমায় জানিয়েছিলেন এখানে এসে তাঁদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কথা শোনার জন্য। তবে পুলিশ ম্যাডাম বলছেন আমরা গেলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হবে। এতদিন পুলিশ কোথায় ছিল যখন নারী নির্যাতন চলছিল?”