
উত্তর ২৪ পরগনা: হাইকোর্টের রায়ের পর সিবিআই (CBI) আধিকারিক সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিলোত্তমার মা রত্না দেবনাথ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মেয়ের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি কোনওভাবেই সন্তুষ্ট নন এবং সিবিআই-এর গাফিলতির জন্য ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
রত্না জানান, আদালতের আদেশের সমস্ত আইনি দিক তাঁর জানা না থাকলেও, এযাবৎ সিবিআই-এর তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি মোটেই খুশি নন। তদন্তকারী আধিকারিক সীমা ভাউজার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানান। সীমার নেতৃত্বে তদন্ত নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে তিলোত্তমার পরিবার। তদন্তের জন্য দু’বার গোল্ড মেডেল পেয়েছেন সীমা। কেবলমাত্র আরজি কর মামলা নয়, তাঁর আগে হাথরাস মামলার তদন্তে সিবিআই যে টিম গঠন করেছিল, তার নেতৃত্বেও ছিলেন সীমা পাহুজা। সে সময়ে তিনি উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের সিবিআই ইউনিটের দুর্নীতি দমন ব্যুরো অর্থাৎ এসিবি-তে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে, তিলোত্তমার মায়ের এই ক্ষোভ ও বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। সিবিআই আধিকারিককে নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে না চাইলেও, রত্না দেবনাথের দাবিকে সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করেন তিনি। মেয়ের বিচারের দাবিতে পরিবারের এই লড়াইয়ে তিনি পাশে আছেন বলেই জানান।
উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকার আমলে আরজিকর তদন্ত নিয়ে বারবার যখন প্রশ্ন তুলছিল পরিবার, সেই সময় পদোন্নতি পান সিবিআই তদন্তকারী অফিসার। সীমা পাহুজা পুলিশ সুপার পদে উন্নীত হলেন। আর জি কর মামলায় তদন্তকারী অফিসার হিসাবে নিয়োগের সময় সীমা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ছিলেন।
এদিকে, তিলোত্তমার সৎকার মামলা পুলিশের হাত থেকে নিয়ে সিবিআইকে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ,কোনও যুক্তি সাজে না। হাইকোর্ট সিট তৈরি করে দেওয়ার পরেও পুলিশ কাজ করেনি। তাই এই তদন্তও সিবিআই করবে। খড়দহ থানার ভূমিকায় ব্যাপক ক্ষোভপ্রকাশও করেন বিচারপতি শম্পা সরকারের।