
বরাহনগর: ভোটের আগে ব্যাপক গোষ্ঠী-কোন্দল বরাহনগরে। দলের কর্মীকেই বেধড়ক মারধরের অভিযোগ তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ক্লাবের ভিতরে ঢুকিয়ে মার। ভোটের আগে প্রার্থী সায়ন্তিকার কেন্দ্রে তুমুল অশান্তি। দলের অন্দরের এই ঘটনা পরবর্তীতে নির্বাচনের রেজাল্টের উপর পড়বে না তো? উঠছে প্রশ্ন।
ঘটনাটি ঘটেছে বরাহনগর আলমবাজারের। সেখানেই প্রকাশ্যে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ। জানা যাচ্ছে, বরাহনগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আলমবাজার বিএসএফ ক্যাম্প এলাকায় ছোট্টু মোহলি নামে এক তৃণমূল নেতা কর্মীদের নিয়ে প্রার্থীর পতাকা লাগানোর কাজ করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূল নেতা পুলক ঘোষের অনুগামীরা তাঁকে এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে আলমবাজার নবজ্যোতি ক্লাবের মধ্যে ঢুকিয়ে বাঁশ, রড ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ছোট্টু মোহলি কুমোর পাড়া লাইন এলাকায় ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যবসা করেন। সেই ব্যবসার টাকার ভাগ দিতে হবে তৃণমূল নেতা পুলক ঘোষকে বলে দাবি আক্রান্তের। এখানেই শেষ নয়, পুলক চাইতেন যাতে মোহলি তাঁর অনুগামী হয়ে কাজ করেন। কিন্তু সেটায় রাজি ছিলেন না তিনি। আক্রান্ত তৃণমূল নেতা স্থানীয় কাউন্সিলর এর অনুগামী বলে পরিচিত। আর সেই ক্ষোভের থেকেই তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে ক্লাবের মধ্যে মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও, গোটা ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকায়। তবে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলক।
ছোট্টু মোহলির অনুগামী রবি মোহলি বলেন, “তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে বাড়ি চলে গেলাম। আমাদের সেক্রেটারি ছোট মৌলি বলেছিলেন বাড়ি চলে যেতে। এরপর রাত সাড়ে এগারোটার সময় ফোন আসে তোদের সেক্রেটারিকে ক্লাবে ঢুকিয়ে পুলক মারছে। মিটার ঘর নিয়ে ঝামেলা অনেক বছর ধরে। আমরা তৃণমূল করি তারপরও তৃণমূলের হাতে মার খাচ্ছি।” অভিযুক্ত পুলক বলেন, “ধুর এমন তো কিছু হয়নি। ছোট্টু মোহলির নামে অভিযোগ পেলাম ওই কাউকে মেরেছে। আসলে ঈদ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। যদিও ওকে তৃণমূল করতে দেখিনি। কোথায় মদ খেয়ে মারপিট করেছে। আমি আর কী বলব।”