
উত্তর ২৪ পরগনা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া দুয়ারে রেশন প্রকল্প কি চালু থাকবে? বেশ কিছুদিন ধরেই এই প্রশ্ন উঠছে। এই নিয়ে এবার রাজ্যের ২৯৪ জন বিধায়কের মতামত চাইলেন রাজ্যের খাদ্য ও সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। বিজেপি বিধায়কদের পাশাপাশি বিরোধী বিধায়কদেরও চিঠি পাঠালেন তিনি। অর্থাৎ মমতার চালু করা প্রকল্প বন্ধ করা হবে কি না, তা জানতে কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দেরও মতামত চাইল রাজ্য সরকার।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় দুয়ারে রেশন প্রকল্প চালুর কথা বলেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঁচ বছর আগে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর গ্রাহকদের সুবিধার্থে বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে দুয়ারে রেশন প্রকল্প চালু করা হয়। এই নিয়ে অবশ্য রেশন ডিলাররা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অসুবিধার কথা জানান। এমনকি, মামলাও হয় আদালতে।
সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রকল্প থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জানান, তিনি মন্ত্রী হওয়ার পরে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। বহু জায়গা থেকে দুয়ারে রেশন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ আসছে। ফলে এই প্রকল্প রাখা ঠিক হবে কি না তা বিধায়কদের কাছে জানতে চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী।
কেন ২৯৪ জন বিধায়কের মতামত নেওয়া হচ্ছে?
এই প্রশ্নের জবাবে অশোক কীর্তনিয়া বলেন, “আমাদের সরকার জনগণের সরকার। আইনের সরকার। আমাদের সরকার শাসকের সরকার নয়। যেকোনও নীতি নিতে গেলে জনগণের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। আমাদের রাজ্যে ২৯৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। আমি তাঁদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। দুয়ারে সরকারের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তাঁরাই নোট দেবেন। তারপর সিংহভাগ যেদিকে থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ব্যক্তিগতভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।”
এই প্রকল্প বন্ধ করার প্রশ্ন উঠছে কেন?
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “কোথাও মনে হচ্ছে দুর্নীতি চলছে। জেলায় জেলায় আমি ঘুরছি। সেটা মন্ত্রিসভায় জানিয়েছি। আমি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, ২৯৪ জন বিধায়কের মতামত নিন। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যালোচনা করুন। সবার মতামত নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই মতো সবার মতামত নেওয়া হচ্ছে।”