
কলকাতা: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, আসানসোল, মালদহ- জায়গায়-জায়গায় বিক্ষোভ মহিলাদের। ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ তিন হাজার টাকা না পেয়ে তুমুল বিক্ষোভ মহিলাদের। তাঁদের দাবি অ্যাকাউন্টে এখনও ঢোকেনি টাকা। এরপরই ক্ষোভ উগরে দিয়ে SDO অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ছোড়া হল ইট। বস্তুত, সাংবাদিক বৈঠক করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ টাকা ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে বলে জানানো হয় নবান্নের তরফে। তবে, বাদ পড়েন অনেক মহিলাও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, যোগ্যরা সকলেই টাকা পাবেন। আর যাঁরা টাকা পেলেন না, তাঁদের ফের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। তারপরও একাংশ মহিলারা টাকা না পেয়ে দেখালেন বিক্ষোভ।
এ দিন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বালুরঘাটে এসডিও অফিসে বিক্ষোভ ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ মহিলাদের একাংশ। SDO অফিসের সামনের নাম প্লেটে ভেঙে দেওয়া হয়৷ এমনকি গেট লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন ক্ষুব্ধ মহিলারা। এসডিও অফিসের পর ডিএম অফিসের সামনেও বিক্ষোভ মহিলাদের। কোথাও সদুত্তর না পাওয়ায় বালুরঘাট ডিএম অফিসের সামনে রাস্তা অবরোধ করলেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় বালুরঘাট প্রশাসনিক ভবন চত্বরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বালুরঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এদিকে রাস্তা অবরোধের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শহরের অন্যতম ব্যস্ততম রাস্তা৷ ক্ষুব্ধ মহিলাদের অভিযোগ,যাঁরা অযোগ্য তাঁরা মাসের পর মাস অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, কারও স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারও স্বামী দিনমজুর, তারপরেও মিলেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বারবার অফিসে ঘুরে এবং আশ্বাস পেয়েও শেষমুহূর্তে আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়। এক বিক্ষোভকারী মহিলা লিলি সরকার বলেন, “আমাদের বর IT কর্মী নয়। পরিবারের আয় ১২ লক্ষের কম। কেউ সরকারি চাকরি করেন না। তাহলে কেন বাদ দিল?” এদিকে, গতকাল রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং দাবি করেছিলেন,নিচুতলার কর্মীরা সরকারকে বদনামের জন্য এই ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তিনি বলেছিলেন, “নিচুতলার যাঁরা অফিসার রয়েছেন বিডিও এরা জেনেশুনে বদমাসি করছে। যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা পাওয়ার যোগ্য আছে তাঁদেরও হেনস্থা করছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে নজরদারি করছি। বারেবারে বলেছি এই ধরনের অন্যায় করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী যে কাজ করতে বলছেন সেইটাই করতে হবে।”