
আসানসোল: ২০২৬-এর নির্বাচনী আবহে রণক্ষেত্র পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া। আইএসএফ কর্মীকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আহত কর্মীর নাম সাহেব আলি মণ্ডল। আক্রান্ত হাবিবুর রহমান নামে আরও একজন। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে জামুড়িয়ায়।
জামুড়িয়া বিধানসভার রাখাকুরিয়া এলাকায় আইএসএফ ও বাম জোটের একটি নির্বাচনী বৈঠক ছিল সোমবার। অভিযোগ, বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হন কর্মীরা। আক্রান্ত হাবিবুর রহমান বলেন, “জোটের মিটিং শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। সেই সময় মোশারফ ইসলাম সহ তৃণমূলের লোকেরা আমার পথ আটকে কুড়ুল দিয়ে মাথায় কোপ মারে। আমরা আইএসএফ করি বলেই এই হামলা”।
আইএসএফ নেতা জামশেদ আলম শাহ জানান, সাহেব আলিকে একা পেয়ে তৃণমূলের ২০-২৫ জন গুন্ডা হামলা চালায়। কুড়ুল ও ভারী অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। জামুড়িয়া থানার পুলিশের গাড়িতেই তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সাবির হোসেন হামলার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “এটি শুধু ব্যক্তির ওপর নয়, গণতন্ত্রের ওপর হামলা।” অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।
বিজেপি প্রার্থী ডা. বিজন মুখোপাধ্যায় তৃণমূল সরকারের আমলের ‘গুন্ডারাজ’-এর সমালোচনা করে বলেন, “পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা, তৃণমূল শুধু ভয় দেখায় আর তালাবন্ধ করে ভোট করতে চায়। তিনি বলেন, “আক্রান্ত কর্মীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।”
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি. শিবদাশন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন। তিনি বলেন, “এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। পাবলিকের সঙ্গে কোনও কারণে ঝামেলা হওয়ায় আমজনতাই মারধর করেছে। আইএসএফ বা সিপিএমের এখানে কোনও মাটি নেই, তাই কুৎসা করে মাইলেজ পেতে চাইছে”।
জানা গিয়েছে, আক্রান্ত সাহেব আলির অবস্থা আশঙ্কাজনক। জামুড়িয়া থানায় ইতিপূর্বেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।