
দুর্গাপুর: তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরের শহিদ দিবস পালন নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। তবে গতকাল ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ৫ জন উপস্থিত হলেও ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন করবেন তিনি। ধর্মতলাতেই সেই শহিদ দিবস পালন হবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কিন্তু, কলকাতা হাইকোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, রাস্তা পুরো আটকে সভা-মিছিল করা যাবে না। তাহলে বর্তমান রাজ্য সরকার কি তৃণমূলকে ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালনের অনুমতি দেবে? এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল?
কী বললেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী?
এদিন দুর্গাপুরে তৃণমূলের শহিদ দিবস পালন নিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা বলেন, “কেউ তো বারণ করেনি। করতেই পারেন। কিন্তু, সরকারের নিয়ম মেনে করতে হবে। রাস্তা বন্ধ করে, জোরে লাউডস্পিকার চালিয়ে, মানুষকে বিরক্ত করে করা যাবে না। সবাই তো আপনার দলের নয়। যাঁরা আপনার দলকে সমর্থন করেন না, আপনি তাঁদের বিরক্ত করবেন কেন?”
এরপরই তিনি বলেন, “যে সরকারকে আপনারা ১৫ বছর দেখেছেন, আমরা ওই সরকার নই। সেইসময় বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে সবকিছুতে হাইকোর্টে ছুটতে হয়েছিল অনুমতির জন্য। আমরা সেই সরকার নই। আমরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএম, কংগ্রেসের মুখ বন্ধ করে রাজনীতি করতে আসিনি। আমরা শক্তিশালী বিরোধী চাই।” এদিন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন অগ্নিমিত্রা। চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেকের বিদেশ যেতে চাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশ কেন যাবেন? এসএসকেএম-এ ভালো ব্যবস্থা রয়েছে। অভিষেকবাবু আপনাকে বিদেশ যেতে হবে না। আমরা এখানে ব্যবস্থা করে দেব। আয়ুষ্মান ভারত কার্ড রয়েছে তো। খরচের জন্য চিন্তা করতে হবে না।”
তৃণমূলের শহিদ দিবস পালন নিয়ে কী বললেন কুণাল ঘোষ?
ধর্মতলায় তৃণমূলের শহিদ দিবস পালন নিয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “ওখানে প্রতি বছর শহিদ দিবস পালন হয়। এবার সরকার অনুমতি না দিলে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা দলের নেতৃত্বই ঠিক করবেন। তবে যেহেতু ঘটনাটি ওখানে ঘটেছিল, তাই শহিদ দিবস ধর্মতলাতেই পালন হয়।” রেড রোড আটকে রেখে যোগ দিবস পালনের কথা তুলে ধরেন তিনি।
গতকাল কী বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
তৃণমূলের শহিদ দিবস পালন নিয়ে গতকাল দলের কর্মীদের বার্তা দিয়ে মমতা বলেছিলেন, “আমাদের মিটিং মিছিলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। একুশে জুলাইয়ের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আশা করি আমরা ২১ জুলাইয়ের অনুমতি পাব। বছরে তৃণমূলের একটাই প্রোগ্রাম। আর সেই প্রোগ্রাম অনেক ঝড়-জল পেরিয়ে আমাদের করতে হবে। কিন্তু, পাঁচজন কর্মী থাকলেও আমাদের মিটিং হবে। তাই ২১ জুলাই সমবেত হন, জমায়েত হন।”