Textile Industry: বাংলায় বন্ধ খনির জমিতে রেশম চাষ, তৈরি হবে শিল্পের নতুন ইকোসিস্টেম! বড় বার্তা কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রীর

Minister Giriraj Singh on West Bengal Textile Industry: জামুরিয়ার ওই বস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করে মন্ত্রী বলেন, "প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কারখানাটি যেভাবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন, শিল্পের প্রতিকূল পরিবেশ এবং পরবর্তী সময়ে কাটমানি ও তোলাবাজির সংস্কৃতির জেরে বাংলার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"

Textile Industry: বাংলায় বন্ধ খনির জমিতে রেশম চাষ, তৈরি হবে শিল্পের নতুন ইকোসিস্টেম! বড় বার্তা কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রীর
আসানসোলে বস্ত্রমন্ত্রীImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Nov 07, 2026 | 3:57 PM

আসানসোল: বাংলার বস্ত্রশিল্পে নতুন করে গতি আনতে উদ্যোগী সরকার। এবার বন্ধ কয়লাখনির জমিতে রেশম চাষের পরিকল্পনা। খনির  জমিতে মালবেরি প্ল্যান্টের চাষ থেকে শুরু করে রেশমের সুতো তৈরি এবং কাপড় উৎপাদন, গোটা প্রক্রিয়াকে একটি শিল্প ইকোসিস্টেমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শনিবার জামুরিয়া শিল্পতালুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বস্ত্র কারখানা পরিদর্শনে এসে এমনটাই জানালেন জানালেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিং (Giriraj Singh)। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের নতুন নীতি এবং বস্ত্রশিল্পের (Textile Industry) হাত ধরেই বাংলার অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আসতে পারে। তৈরি হতে পারে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও।

কারখানা পরিদর্শনের পর কী বললেন মন্ত্রী?

জামুরিয়ার ওই বস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করে মন্ত্রী বলেন, “প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কারখানাটি যেভাবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন, শিল্পের প্রতিকূল পরিবেশ এবং পরবর্তী সময়ে কাটমানি ও তোলাবাজির সংস্কৃতির জেরে বাংলার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের অব্যবস্থা ও দুর্নীতির সংস্কৃতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।”

তবে, অতীতের সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে বাংলার শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশাবাদী কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কেন্দ্রের নতুন শিল্পনীতি এবং বস্ত্রশিল্পের প্রসারের মাধ্যমে রাজ্যে ফের বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। কৃষির পরই সবথেকে বেশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে হল বস্ত্রশিল্প। মন্ত্রীর দাবি, বস্ত্রশিল্পে প্রতি এক কোটি টাকা বিনিয়োগ হলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে এই শিল্পের প্রসার ঘটলে রাজ্যের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের পথ খুলবে।

বন্ধ খনির জমিতে রেশম চাষ 

তবে, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক বন্ধ কয়লাখনি বা খনির জমিকে কাজে লাগিয়ে রেশম শিল্পের পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পেন্নাবলম জানান, সেন্ট্রাল সিল্ক বোর্ডের প্রস্তাব অনুযায়ী, বন্ধ খনির জমিতে মালবেরি বা তুঁত চাষের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই চাষ থেকে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহার করে রেশমের সুতো তৈরি এবং পরবর্তী পর্যায়ে কাপড় উৎপাদন, এভাবে একটি সম্পূর্ণ শিল্পক্লাস্টার গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ, জমি থেকে কাঁচামাল উৎপাদন, সুতো তৈরি এবং শেষ পর্যন্ত বস্ত্র উৎপাদন, গোটা প্রক্রিয়াই একই ইকোসিস্টেমের মধ্যে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম বর্ধমানের বন্ধ খনির জমি নতুন করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জামুরিয়াকে কেন্দ্র করে গোটা পশ্চিম বর্ধমান তথা রাজ্যে বস্ত্রশিল্পের নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কারখানার ডিরেক্টর অভিষেক শর্মাও। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের সহযোগিতা এবং সম্প্রতি ঘোষিত নতুন শিল্পনীতি তাঁদের ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us