
আসানসোল: রাজ্যে সাড়ে চার হাজার সরকারি স্কুলে নেই কোনও পড়ুয়া! সরকারি স্কুলের ভবিষ্যৎ যখন পিপিপি মডেলের দিকে এগোচ্ছে, তখন সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখা যাচ্ছে এ রাজ্যেরই এক স্কুলে। কলকাতা থেকে দূরের জেলার এক স্কুলে এমন আধুনিক ব্যবস্থা দেখলে অবাক হতে হয়।
পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ার বোরিংডাঙা হাইস্কুল প্রমাণ করে দিচ্ছে, সদিচ্ছা ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে সরকারি বিদ্যালয়ের চৌকাঠ পেরিয়েও আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সম্ভব। আজ যে স্কুলে পড়ুয়াদের উপচে পড়া ভিড়, তার নেপথ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পরিকাঠামো। শুধু আধুনিক ক্লাসরুম থাকাই তো যথেষ্ট নয়।
সবুজ গাছে ঘেরা চত্বর, আর্সেনিকমুক্ত ঠান্ডা পানীয় জল, নিজস্ব সোলার প্যানেল আর ‘জল ধরো জল ভরো’ প্রকল্পের সুবাদে বিদ্যালয়টি আজ পুরোপুরি আত্মনির্ভরশীল। কেবল পাঠ্যবইয়ের পড়া নয়, ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্র্যাকটিক্যাল ল্যাব। পাশাপাশি, ছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দিয়ে বসানো হয়েছে ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন, তৈরি হয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্য ক্লিনিক।
ফলাফল মিলেছে হাতেনাতে। স্কলারশিপ পরীক্ষা থেকে শুরু করে খেলাধুলো, সব ময়দানেই বাজিমাত করছে নবম-দশম শ্রেণির জ্যোতি, জয়িতা বা অগ্নিরা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মিঠু বোস ও সহশিক্ষকদের ভালোবাসায় বদলে যাওয়া এই মডেল স্কুল প্রমাণ করে দিয়েছে, সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরাও বিনামূল্যে পেতে পারে ‘প্রাইভেট’ স্কুলের সমান সুযোগ-সুবিধা। রাজ্য জুড়ে হাজারো সরকারি স্কুলের আক্ষেপের মাঝে জামুড়িয়ার এই বোরিংডাঙা আজ শিক্ষার আলোয় এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মিঠু বোস বলেন, “পড়ুয়াদের শিক্ষার মানোন্নয়নই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। বেসরকারি স্কুলের মতোই পরিবেশ যাতে থাকে, সেই চেষ্টাই করি।”