
ঘাটাল: পালাবদলের পরই দিকে দিকে গ্রেফতার একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর-নেতা। সামনে আসছে পর এক দুর্নীতির কারবার। মঙ্গলবারই বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য গ্রেফতার হওয়ার পরেই তাঁর কম্পিউটার সেন্টার থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৮০ হাজার টাকা। পুলিশ তদন্তের জাল গোটাতে শুরু করতেই পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার বস্তা বস্তা টাকা। এবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল ব্লকের রাধানগর এলাকায় রাধানগর তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার বস্তা ভর্তি প্রচুর স্কুলের ড্রেস, জবকার্ড, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। এমনকী কন্ডোমের প্রচুর প্যাকেটও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর থেকেই এই দলীয় কার্যালয় বন্ধ ছিল। এদিন এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওই পার্টি অফিসের তালা ভেঙে ফেলেন। ভিতরে ঢুকতেই বেরিয়ে আসে প্রচুর স্কুলের ড্রেস, জবকার্ড, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। সঙ্গে প্রচুর কন্ডোম উদ্ধারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
ঘটনায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এলাকার মহিলাদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, ২০২১ সালের পর থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মরা এখানে সন্ত্রাস কায়েম করে রেখেছিল। আতঙ্কে ছিলেন এলাকার মহিলারা। এলাকার এক মহিলা বলেন, “আমাদের উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। বাড়ির মেয়ে-বউদের মান-সম্মান নিয়ে টানাটানি করেছে। আমার স্বামী-শ্বশুর বিজেপি করতো বলো আমাদের বাড়িতে ভাঙচুরও হয়েছিল। আমাদের এখানে মেয়েদের স্বাধীনতা ছিল না। ভোটের আগেও থ্রেট দিয়েছিল ওরা। বলেছিল, তৃণমূলকে ভোট না দিলে ঘরের মেয়েদের টেনে নিয়ে যাবে। স্বামীদের মেরে বউদের বিধবা করবে।”
তবে এ বিষয়ে এলাকার তৃণমূল নেতা তথা ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিজয় মন্ডি সাফাই দিয়েছেন। তিনি বলছেন, এগুলো কীভাবে এখানে রাখা হয়েছে জানি না। তবে এগুলো জানে এলাকার তৃণমূলের সভাপতি অনন্ত রায়।