
বাঁকুড়া: প্রতিদিন বহু ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলা পড়িয়েছেন। তাঁদের পরীক্ষা নিয়েছেন। ভাল রেজাল্ট হলে ভালবেসেছেন, খারাপ হলে হয়ত পড়ুয়াদের শাসন করেছেন। সেই বাংলার শিক্ষক এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মন্ত্রিসভার মন্ত্রী। এখন শুধু পড়ুয়া নয় গোটা বাংলার দেখভালের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে।
শনিবার বিগ্রেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হয়েছিল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন বাংলার শিক্ষক তথা রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর দফতর বণ্টন করা হয়নি।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষক হিসেবেও পরিচিত ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি বর্ধমান শহরের বাণিপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমান শহরের কালনাগেট সংলগ্ন খাঁপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রানিবাঁধ ও বর্ধমান—দুই জায়গাতেই খুশির হাওয়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সাধারণ জীবনযাপন ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছে যেতে পারেন ক্ষুদিরাম। এবার মন্ত্রী হিসেবে তাঁর উপর বাড়তি দায়িত্ব আসতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গোপীবল্লভ রায়।
গোপীবল্লভবাবু বলেন, “ক্ষুদিরাম বাংলার শিক্ষক। ওঁর এক মেয়ে আছে। ওঁর স্ত্রী আশাকর্মী। ক্ষুদিরামের সময় জ্ঞান প্রবল। সঠিক সময়ে আসতেন, সঠিক সময়ে যেতেন। কোনও ঝামেলায় থাকতেন না। উনি এবং আমি একসঙ্গে যৌথভাবে হস্টেল বানিয়েছি। আর উনি না থাকলে সেটা হত না। ওঁকে প্রধানমন্ত্রীও খুন ভালবাসে।”