
কেতুগ্রাম: গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯ জন সদস্য। তার মধ্যে একমাত্র তিনিই বিজেপির। বাকি ১৮ জনই ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন। কিন্তু, রাজ্যে পালাবদল হতেই বিজেপির একমাত্র সদস্যের হাতেই এল পঞ্চায়েতের ক্ষমতা। তিনিই হলেন নতুন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল কেতুগ্রাম-২ ব্লকের মৌগ্রাম পঞ্চায়েত। দেখা মিলছিল না তৃণমূলের প্রধান, উপপ্রধান-সহ একাধিক সদস্যের। ফলে পরিষেবা নিতে এসে সমস্যায় পড়ছিলেন গ্রামবাসীরা। এই অচলাবস্থা কাটাতে ব্লক প্রশাসনের পরামর্শে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়।
আর সেই বৈঠকেই ঘটে গেল একেবারে উলটপুরাণ। তৃণমূলেরই সদস্যরা সমর্থন করলেন পঞ্চায়েতের একমাত্র বিজেপি সদস্যকে। সবার সমর্থনে মৌগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হলেন বিজেপি সদস্য চন্দ্রাবতী ঘোষ।
জানা গিয়েছে, ভোটের ফল প্রকাশের পর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ইস্তফা দেন। ইস্তফা দেন উপপ্রধানও। পঞ্চায়েতের অচলাবস্থা কাটাতে গত ৪ অগস্ট ব্লক প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ডাকা হয় অনাস্থা বৈঠক। অনাস্থা প্রস্তাবে সায় দেন উপস্থিত ১৫ জন তৃণমূল সদস্য। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একমাত্র সদস্য চন্দ্রাবতী ঘোষ।
বিজেপির নতুন প্রধান চন্দ্রাবতী ঘোষের দাবি, এতদিন পঞ্চায়েতে তাঁকে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হত না। এমনকি নিজের ছেলের সার্টিফিকেট চাইতে এসেও তা পাননি। তৃণমূলের আমলে পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। বলেন, “তৃণমূলের প্রধান নানা দুর্নীতিতে যুক্ত। সরকার বদলের পর থেকে তৃণমূল প্রধান আর অফিসে আসেননি। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছিলেন না। তখন বিডিও পঞ্চায়েত সদস্যদের পদক্ষেপ করতে বলেন। পঞ্চায়েতের সব সদস্য অনাস্থা ডেকে সিদ্ধান্ত নেন, বিজেপির সদস্যকে প্রধান করা উচিত। সবাই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে প্রধান করেছেন।” সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চায়েতের উন্নয়ন করবেন বলে জানান।
নব নির্বাচিত BJP প্রধান চন্দ্রাবতী ঘোষ
পঞ্চায়েতের অফিসার মনোজ মিস্ত্রির দাবি, প্রধান ইস্তফা দেওয়ার পর কাজ চালাতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণেই প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে অনাস্থা ডাকা হয়। সেখানেই বিজেপির একমাত্র সদস্যাকে প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে পঞ্চায়েতের কোনও তৃণমূল সদস্য প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। অন্য দিকে নতুন প্রধান পেয়ে খুশি গ্রামবাসীরা।