
কাটোয়া: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা কাটোয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে ফের জোরালো জল্পনা। পরিত্যক্ত প্রকল্প এলাকার জমি পরিদর্শন করলেন কেতুগ্রামের বিধায়ক মথুরা ঘোষ। তাঁর দাবি, পুজোর আগেই প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক খবর মিলতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা বা প্রশাসনিক নির্দেশ জারি হয়নি।
কাটোয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা পরিত্যক্ত জমি পরিদর্শন করেন কেতুগ্রামের বিধায়ক মথুরা ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এনটিপিসি-র আইনজীবী চন্দন চন্দ্র সাহা। পরিদর্শনের পর বিধায়ক জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর আশা, দুর্গাপুজোর আগেই ইতিবাচক খবর মিলতে পারে। পাশাপাশি তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং এনটিপিসি-র চেয়ারম্যানের কাছে দ্রুত প্রকল্প চালুর আবেদন জানানো হবে। বিধায়কের দাবি, শ্রীখণ্ড, দেবকুণ্ডু-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ কর্মসংস্থানের আশায় জমি দিয়েছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এনটিপিসি-র আইনজীবী চন্দন চন্দ্র সাহার দাবি, ৭৭৬ একর জমি এখনও এনটিপিসি-র অধীনেই রয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পরিকাঠামোর বড় অংশ প্রস্তুত রয়েছে। রাজ্য সরকারের সম্মতি মিললেই দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব বলেও তিনি জানান।
এদিকে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শিল্পের অপেক্ষায় থাকা জমিদাতারাও নতুন করে আশার আলো দেখছেন। তাঁদের বক্তব্য, ২০০৬ সালে কর্মসংস্থানের আশায় জমি দিলেও এখনও পর্যন্ত শিল্প গড়ে ওঠেনি। এক জমি দাতা বললেন, “আমাদের এলাকার ছেলেমেয়েগুলো চাকরি পাবে, এই আশাতেই তো জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু গত সরকার আর কিছুই তো করল না। কোনও মতে দুটো গরু চড়িয়ে খাই। এখন বিধায়ক বলছেন কাজ হবে।”
কেতুগ্রামের বিধায়ক মথুরা ঘোষ বলেন, “একটা জনমুখী প্রকল্প। তাতে মানুষ প্রচুর উপকৃত হবে। এলাকার ১০-১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।” এনটিপিসি আইনজীবী চন্দন চন্দ্র সাহা বলেন, “৭৭৬ একর জায়গায় এনটিপিসি-র নামে হয়ে রয়েছে। এটা রাজ্যের এটা জায়গা নয়। যদি এনটিপিসি-কে অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে ৭ দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। এখানে রাজ্য সরকারকে পয়সা দিতে হবে না। উল্টে চুক্তি অনুযায়ী রাজ্য সরকার এখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক পাবে। সেটা বিক্রি করতে পারবে। “