CM Suvendu Adhikari: মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য, চাকরির ব্যবস্থা করতে পুলিশকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

Bay of Bengal Boat Tragedy Compensation: মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের একজনকে যোগ্যতা অনুযায়ী সিভিক কিংবা হোমগার্ডে চাকরি দেওয়ার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ অর্থ দিয়ে হয় না। কিন্তু, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।"   

CM Suvendu Adhikari: মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য, চাকরির ব্যবস্থা করতে পুলিশকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jul 26, 2026 | 10:30 PM

রামনগর: বঙ্গোপসাগরে ট্রলার উল্টে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারগুলিকে যোগ্যতা অনুযায়ী হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দিতে উদ্যোগী হতেও পুলিশকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দিঘায় স্থায়ী বিপর্যয় মোকাবিলা দল তৈরিরও নির্দেশ দিলেন। বঙ্গোপসাগরে ট্রলার উল্টে মৃতদের মধ্যে পড়শি রাজ্য ওড়িশারও তিন মৎস্যজীবী রয়েছেন। তাঁদের পরিবারগুলিকেও আর্থিক সহায়তা করবে রাজ্য। তবে তাঁদের পরিবারগুলিকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয় বলে এদিন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

কয়েকদিন আগে বঙ্গোপসাগরে ট্রলার উল্টে বেশ কয়েকজন মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়। রামনগরের মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য করার জন্য এদিন রামনগর ১ ব্লকে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচ মন্ত্রী অরূপ দাস, বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, মৎস্য দফতরের আধিকারিক-সহ বিশিষ্টজনরা। এদিন ক্ষতিগ্রস্ত ৯ মৎস্যজীবীর পরিবারের হাতে রাজ্য সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকার টেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও পরিবারের একজনকে যোগ্যতা অনুযায়ী সিভিক কিংবা হোমগার্ডে চাকরি দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ অর্থ দিয়ে হয় না। কিন্তু, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।”

প্রসঙ্গত, গত ২ জুলাই পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ১৫ জন মৎস্যজীবী। ‘জয় মা কালী’ নামে ট্রলারটি উল্টে যায় বঙ্গোপসাগরে। পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঘেরচর এলাকায় ট্রলারটিকে উদ্ধার করা হয়। উল্টে থাকা অবস্থায় ট্রলারটিকে শনাক্ত করা হয়। পরে বন দফতর, গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানা, সুন্দরবন পুলিশ, উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের যৌথ অভিযানে ট্রলারটি উদ্ধার করে পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরের সীতারামপুর ঘাটে নিয়ে আসা হয়। পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, ট্রলারের মালিক, মৎস্যজীবী সংগঠন ও পরিবারের সদস্যরা গিয়ে উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের দেহ শনাক্ত করেন। ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক প্রকাশের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করেন।

এদিন রাজ্য সরকারের এই তৎপরতার সঙ্গে উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মৎস্যজীবী পরিবার থেকে সংগঠনের সকলে। দেবব্রত রাউৎ নামে একজন বলেন, “আমার বাবা তো আর ফিরে আসবেন না। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরা কৃতজ্ঞ। উনি চাকরির কথা বলছেন। পেলে ওই চাকরিই করব।” কিন্তু, বাবার মতো তিনি সমুদ্রে মাছ ধরতে যাবেন না বলে জানিয়ে দিলেন।

Follow Us