
কাঁথি: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার ছক কষেছিল। বর্ধমান থেকে সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। এই নিয়ে শোরগোল পড়েছে। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন শুভেন্দুর পিতা তথা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। তিনি বলেন, “বাংলার স্বার্থে ওকে রক্ষা করুন।” একইসঙ্গে পুলিশের প্রশংসা করে তাঁর বক্তব্য, “যারা এসব চক্রান্ত করছে, সেই চক্রান্ত বেশিদিন টিকবে বলে আমার মনে হয় না।”
কী বললেন শিশির?
শুভেন্দুর উপর যে হামলার চক্রান্ত অনেক বছর ধরেই করা হচ্ছে, সেকথা তুলে ধরে এদিন শিশির অধিকারী বলেন, “এই চক্রান্ত বহুদিনের। একবার বাথরুম ভেঙে ঢুকে পড়েছিল। আমার ছোট ছেলে সৌমেন্দু (সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী) সেদিন আটকেছিল। আমি না থাকলে মেরে ফেলত সেদিন। সেটার পর একবার ছুরি নিয়ে তিনতলায় উঠে পড়েছিল একবার। সে-ও ধরা পড়ে গেল। তার জন্য পুলিশের ইনস্ট্রাকশনে তার (শুভেন্দু) যা চলা দরকার, যেরকম থাকা দরকার। তাই করে। কিন্তু, পুলিশের কথা তো বেশি শোনে না। মুশকিল হচ্ছে এখানে। পুলিশ প্রাক্টিকালি ওকে খুব গার্ড দিয়ে রাখে। পুলিশরাও জানে। বিশেষ করে সেন্ট্রাল ফোর্স, সিআরপিএফ আছে। তারাও জানে। এবং তারা সেভাবে গার্ড দেওয়ার চেষ্টা করে। মানুষের লোক মানুষের কাছে বেরিয়ে যেতে চায়। ছিটকে বেরিয়ে যায়। এটাই ভয় করছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার চক্রান্ত নিয়ে কেন্দ্রের তরফে সতর্ক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দিল্লি থেকে আমাদের গত দেড় দু’মাসে বারে বারে এলার্ট করা হয়েছে যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এইসব জায়গা দিয়ে প্যাসেজ করে কেউ না কেউ ঢুকেছে। এবং সেরকম খবর ওদের কাছে ছিল। এবং সে খবরের ফল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আজকে প্রমাণ করে দিয়েছে যে এসব খবর ঠিক।”
রাজনৈতিক শত্রুতা থেকেই এই হামলার চক্রান্ত বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রীর পিতা বলেন, “রাজনৈতিক শত্রুতা থেকে তো আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য বহু চেষ্টা করেছে। যখন আমরা কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এলাম, তখন আমাদের পরিবারের নামে ছিল প্রায় ১৪৯টা মামলা। আবার গত সরকারের সেই মহিলার দল ছেড়ে দিয়ে যখন বেরিয়ে এলাম, তখন তো কোনও সভা করতে দেয়নি। হাইকোর্ট করতে হয়েছে, আপনারা জানেন। প্রায় ১৫০-২০০ বার হাইকোর্টে যেতে হয়েছে অনুমতির জন্য। মামলাও অনেক করেছে। এমনকি, কেউ কেউ আবার মিথ্যা মামলা পুরনো ২০ বছর আগের কোনও মামলাকে বার করে আনার চেষ্টা করেছে। করে কোনওরকমে অন্দর করে দাও, এই হচ্ছে কথা।”
‘বাংলার স্বার্থে ওকে রক্ষা করুন’-
সন্দেহভাজন জঙ্গিকে ধরার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে শিশির অধিকারী বলেন, “বর্তমান সরকারের পুলিশকে ধন্যবাদ দেব। নিশ্চয় তাঁরা রক্ষা করেছেন মুখ্যমন্ত্রীকে। এবং তাঁদের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে যে তাঁরা যেন সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। কারণ, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলে ওঁরাই তো আমাদের রক্ষক। তাঁরা যেন রক্ষা করেন। ঠাকুরের কাছে এই প্রার্থনা করি, ওকে রক্ষা করুন। বাংলার স্বার্থে ওকে রক্ষা করুন। আর যারা এসব চক্রান্ত করছে, সেই চক্রান্ত বেশিদিন টিকবে বলে আমার মনে হয় না। পারবে না। ভারত সরকার যেভাবে নজর রেখেছে, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।”