Suvendu Adhikari: ‘আমি একটাকেও ছাড়ব না, সব হিসাব হবে বন্ধু’, নন্দীগ্রাম থেকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

Suvendu Adhikari warning to TMC: নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "বিশেষ বিশেষ রক্তঝরা দিন— ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক, প্রবল শৈত্যপ্রবাহ চলুক, ঘন কুয়াশা থাকুক, আমি কিন্তু আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ৭ জানুয়ারি ভোরবেলা ভাঙাবেড়া, ১৪ মার্চ সকালবেলা গোকুলনগর অধিকারী পল্লী আর সোনাচূড়া, ১০ নভেম্বর গোকুলনগর কর পল্লী— আমার বিশেষ অসুবিধা না হলে আমি আপনাদের কাছে আগের মতোই পৌঁছাব, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।"

Suvendu Adhikari: আমি একটাকেও ছাড়ব না, সব হিসাব হবে বন্ধু, নন্দীগ্রাম থেকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

May 24, 2026 | 10:33 PM

নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর বহু বছরের সম্পর্ক। একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। ছাব্বিশের নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম থেকে জেতেন। এবার ভবানীপুরেও জয়ের পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়েছেন। তবে এক মুহূর্তের জন্য ভোলেননি নিজের ‘ভদ্রাসন’-কে। নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে রবিবার সেখানে পৌঁছে গেলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, তিনি নন্দীগ্রামের ছেলে হয়েই থাকবেন। একইসঙ্গে তৃণমূলকে তাঁর হুঁশিয়ারি, কোনওকিছুই তিনি ভোলেননি। সব হিসাব হবে।  

নন্দীগ্রামবাসীর পাশে থাকার বার্তা শুভেন্দুর-

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আপনারা নিশ্চিত থাকুন, যে স্বপ্ন আপনারা দেখেছেন আমাকে বা আমাদের কেন্দ্র করে, আমি শুভেন্দু অধিকারী আপনাদের ঋণ আমি এবারে শোধ করব। আমার প্রতি ভরসা রাখবেন। ভরসা রাখবেন, যা যা পরিষেবা আমার অফিসগুলো থেকে দেওয়া হত, সেই পরিষেবা আপনারা পাবেন। যেভাবে আপনারা বিগত দিনে আমাকে দেখেছেন, একইভাবে দেখবেন। আমার কোনও পরিবর্তন আপনাদের চোখে পড়বে না— এটুকু আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই।”

এরপরই তিনি বলেন, “বিশেষ বিশেষ রক্তঝরা দিন— ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক, প্রবল শৈত্যপ্রবাহ চলুক, ঘন কুয়াশা থাকুক, আমি কিন্তু আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ৭ জানুয়ারি ভোরবেলা ভাঙাবেড়া, ১৪ মার্চ সকালবেলা গোকুলনগর অধিকারী পল্লী আর সোনাচূড়া, ১০ নভেম্বর গোকুলনগর কর পল্লী— আমার বিশেষ অসুবিধা না হলে আমি আপনাদের কাছে আগের মতোই পৌঁছাব, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।” নন্দীগ্রামের উন্নয়নে সবরকম পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি।

মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর-

সভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “উনি এসেছিলেন আমাকে হারাতে। আপনারা হারিয়ে ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন করেছেন। এবারে আমাকে দল বলল, আপনি কি ওর পাড়ায় গিয়ে দাঁড়াবেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি ওখানে লড়লাম। ১৫,১০৫ ভোটে হারিয়েছি। শুধু হারানো নয়, মাননীয়া যে বুথে ভোট দেন— মিত্র ইনস্টিটিউশন— সেই চারটে বুথেও ওঁকে আমি হারিয়েছি। শুধু ওঁর বুথে নয়, ওঁর জনাব ফিরহাদ হাকিম, তাঁর ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে আমি ১৪,০০০ ভোট লিড নিয়েছি।” সংবিধান মেনে একটা আসন ছাড়লেও তিনি নন্দীগ্রামের সঙ্গে সবসময় রয়েছেন জানিয়ে বলেন, “একদম বিচলিত হবেন না। একদম ভাববেন না। একদম দূরত্ব তৈরি করবেন না। আপনাদের শুভেন্দু, আপনাদের সঙ্গে ছিল, আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।”

উন্নয়নের বার্তা শুভেন্দুর-

৩৪ বছরের বাম সরকার আর ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “এই রাজ্যটাকে মোদীজির সাহায্য নিয়ে, তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে, তাঁর সহযোগিতা নিয়ে আবার নতুন করে দাঁড় করাতে হবে। মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখছেন। কাজ আমরা শুরু করেছি। মাত্র দু-সপ্তাহ হয়েছে। আপনারা আরও, আরও দেখতে থাকবেন। কথা আর কাজের মধ্যে বিজেপির মিল আছে। আমরা যা বলি ভেবে বলি, যেটা বলি সেটা করি। এই রাজ্যের যে বেহাল অবস্থা, সেখান থেকে রাজ্যকে বের করে আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষিত যুবক-যুবতী কর্মসংস্থান চায়। রাজ্যের মানুষ শিল্প চায়, কৃষকরা ফসলের দাম চায়, মহিলারা সুরক্ষা চায়। সরকারি স্কুল-কলেজগুলোকে আধুনিক বানানো চায়। মানুষ সরকারি হাসপাতালের সুবিধা পেতে চায়। পরিশোধিত পানীয় জল চায়, আলো, ভালো রাস্তা, আরও ভালো সেতু চায়। মানুষ চায় গতির যুগে এই রাজ্যকে আপনারা নতুন করে সাজান। মানুষ চায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। মানুষ চায় পুলিশ ‘সত্যমেব জয়তে’-র ওপরে কাজ করুক। পুলিশ যেন পার্টির ক্যাডার না হয়। মানুষ চায় বাংলায় ভারতীয়রা থাকুক, অভারতীয়রা বাংলার বাইরে চলে যাক। আমরা এই কাজ করব।”

তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দুর-

তৃণমূল আমলে বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার, নানা মামলায় জড়ানো নিয়ে সরব হন শুভেন্দু। বলেন, “হিসাব তো অবশ্যই হবে। হাতে আইন তুলবেন না। এখনও গুন্ডাগুলো বাড়িতে আছে। চাইলে তো ইট খুলে নিতে পারেন আপনারা। না, করবেন না, বিজেপি এটা করে না। এদের আসল জায়গা হবে জেল। আমি একটাকেও ছাড়ব না। আমি ভুলব না। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, ভরসা রাখুন। সব হিসাব হবে বন্ধু! সব হিসাব হবে! শুধু দেখতে থাকুন।”

Follow Us