
কাঁথি: কাঁথিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাসভবন শান্তিকুঞ্জে মেদিনীপুর লোকসভার সাংসদ জুন মালিয়া। দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রীর পিতা তথা কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারীর সঙ্গে। বেশ কিছুক্ষণ শান্তিকুঞ্জে ছিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ। শিশির অধিকারী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন বলে জানান জুন মালিয়া। শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এগরার জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মেদিনীপুরের সাংসদ। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেন তাঁরা।
পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজবাড়ির সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে জুন মালিয়ার। নিজেকে তিনি মেদিনীপুরের মেয়ে বলে পরিচয় দেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কাঁথির বাড়ি গিয়ে শিশির অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পর সেই ‘মাটির টানের’ কথাই তুলে ধরলেন। মুখ্যমন্ত্রীর পিতা ও পরিবারের অন্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন জানিয়ে জুনের সংযোজন, “আজকে মূলত ওঁর (শিশির অধিকারী) সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম ওঁর সঙ্গে, জেঠিমা ও বাড়ির অন্যদের সঙ্গে। উনি আশীর্বাদ করলেন। আমরা একই জেলার। আমিও মেদিনীপুরের। তাঁরাও। একই মাটির মানুষ। ওঁর সঙ্গে দেখা করে খুব ভালো লাগল। অনেকক্ষণ সময় কাটালাম। আবার আসব। উনি বললেন, ‘ভালো করে কাজ করো। এগিয়ে যাও।’ প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছেন।”
জুন তাঁর সঙ্গে দেখা করার পর শিশির অধিকারী বলেন, “সাংসদের পরিবারকে আমি অনেকদিন ধরেই চিনি। এগরার একটা জায়গা বন্যায় প্লাবিত। উনি দিব্যেন্দুর সঙ্গে এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যা সাহায্য চেয়েছিলেন, তা পেয়েছেন। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আর বলেছেন, এর আগে এত সহযোগিতা পাইনি কারও কাছে।”
বন্যা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে দিব্যেন্দু অধিকারী ও জুন মালিয়া
মেদিনীপুর লোকসভার অন্তর্গত একটি বিধানসভা এগরা। যার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী। বন্যায় এগরার একাধিক এলাকা প্লাবিত। এদিন শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়ে বন্যা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যান দিব্যেন্দু ও জুন। এগরা -১ ব্লকের সাহাড়া অঞ্চলের হাটপদা, গোপীনাথপুর , চকমুরারি এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে শুকনো খাবার ও ত্রিপল তুলে দেন। এলাকার উন্নয়নে মানুষের স্বার্থে আগামিদিনে একসঙ্গে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন দু’জনই। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন জুন। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর তিনি NCPI-তে যোগ দেন। যদিও লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ হিসেবেই এখনও রয়েছেন তিনি। এই নিয়ে এদিন খোঁচা দেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। জুনের শান্তিকুঞ্জে যাওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্য, জুন এখন কোন দলের, সেটা আগে বলুন।