
নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা বোঝাতে ১৫ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমার পদোন্নতি হতে পারে, দায়িত্ব বাড়তে পারে। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁরা আমাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেন, ভালোবাসেন। বারে বারে তাঁরা আমাদের সংবিধানিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত করেছেন। আজকে আমি কিছু উন্নয়নের ডালি নিয়ে এসেছি।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এতদিন নন্দীগ্রাম দিয়েছে, এবার আমার দেওয়ার পালা।” নন্দীগ্রামে এতদিন পর্যটক ও সরকারি আধিকারিকদের রাত্রিকালীন আবাসন সমস্যার সমাধান এবং পুলিশ-জনগণ সমন্বয় বৃদ্ধিতে এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে।
জি+১ (দোতলা) পুলিশ ব্যারাক: ৯৮ জন পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকের থাকার জন্য মর্ডান G+1 ব্যারাক তৈরি করা হচ্ছে।
থানায় আধুনিক সুবিধা:
স্বাস্থ্যচর্চার জন্য জিমন্যাশিয়াম (Jym) স্থাপন।
বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য ওয়াটার পিউরিফায়ার। বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামলাতে জেনারেটর ব্যাকআপ সাপোর্ট। রাজ্যের ৪৫২টি অনুমোদিত থানার মধ্যে ইতিমধ্যে ১১২টিতে কাজ শুরু হয়েছে।
জরুরি ও অতিরিক্ত টিম: ১টি গাড়ি ও ১টি মোটরসাইকেল ইতিমধ্যে এসেছে, শীঘ্রই আরও ৩টি গাড়ি, ৪টি মোটরসাইকেল এবং ২০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য যোগ দেবেন।
সোনাচূড়া আউটপোস্ট: নন্দীগ্রাম বাজার থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরবর্তী সোনাচূড়ায় নতুন পুলিশ আউটপোস্ট তৈরিতে ক্যাবিনেট অনুমোদন পাওয়া গেছে।
থানার সৌন্দর্যায়ন ও পরিকাঠামো:
৫০ জনের রান্নার সুবিধাসহ ক্যান্টিন। বাউন্ডারি ওয়ালের মেরামত ও পুনর্নির্মাণ, পুকুরের সুরক্ষায় গার্ডওয়াল ও স্নানের ঘাট নির্মাণ। আইসি (IC) বিল্ডিং মেরামত ও সাধারণ মানুষের বসার জন্য ভিজিটর ওয়েটিং শেড এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তা উন্নয়ন।
জি+২ (তিনতলা) গেস্ট হাউস: নন্দীগ্রামে আগত দর্শনার্থী ও আধিকারিকদের থাকার সুবিধার জন্য হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ (HDA) এই গেস্ট হাউসটি নির্মাণ করছে। পঞ্চায়েত সমিতি বা থানা এটি পরিচালনা করবে। সাধারণ মানুষ ন্যূনতম খরচে এবং সরকারি কর্মচারীরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফ্রি অফ কস্ট-এ থাকতে পারবেন।
অফিসার্স কোয়ার্টার (G+2): গ্রাউন্ড ও সেকেন্ড ফ্লোর মিলিয়ে মোট ৫টি ২-বিএইচকে (2 BHK) ফ্ল্যাটসহ অতিরিক্ত ৬টি নতুন ফ্ল্যাট তৈরি হবে।
১৫৪ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম: বড় মাপের প্রশাসনিক সভা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে।
হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সংযুক্তি: দুটি অঞ্চলকে দ্রুত যুক্ত করার পদক্ষেপ।
পরিবহন ও স্বাস্থ্য: দ্রুত রেললাইন চালু এবং একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ।
কারিগরি শিক্ষা: চাঁদার পোলের কাছে জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের ফিটার, ওয়েল্ডার, ফায়ার ফাইটিং ইত্যাদির মতো কারিগরি কাজ শেখানোর জন্য আইটিআই গড়ে তোলা হবে।