
পুরুলিয়া: একটা লাল ফাইল। একটা নীল ফাইল। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের নথি রয়েছে সেই দুটি ফাইলে। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর পৌরসভায় ৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে সেই দুটি ফাইল শুক্রবার মহকুমা শাসকের দফতরে জমা দিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ২০১৫ সাল থেকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত রঘুনাথপুর পৌরসভা। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌরপ্রধান তরণী বাউরি।
এদিন রঘুনাথপুর বিজেপির প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের দফতরে রঘুনাথপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে প্রায় ৮ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সম্বলিত ‘লাল ও নীল ফাইল’ জমা দিল। বিজেপির অভিযোগ, ২০১৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আবাস যোজনা, শৌচালয় নির্মাণ, পুকুর খনন, রাস্তা-ঘাট-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। বিজেপির দাবি, সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দুর্নীতিতে জড়িত তৃণমূলের চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের জেলের ভিতরে দেখতে চায় তারা।
রঘুনাথপুর শহর বিজেপির সভাপতি শান্তনু চট্টোপাধ্য়ায় বলেন, “আবাস দুর্নীতি, রাস্তা দুর্নীতি। কী দুর্নীতি নেই। আমাদের কাছে দুটো ফাইল ছিল। একটা নীল ফাইল, একটা লাল ফাইল। তা জমা দিয়েছি। এবার বিচারবিভাগীয় তদন্ত আমরা আশা করছি। কোমরে দড়ি পরিয়ে জেলে ভরা হোক।” তাঁর অভিযোগ, “দোতলা-তিনতলা বাড়ি থাকা ব্যক্তি আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন। কিন্তু, মাটির ঘর থাকা ব্যক্তি টাকা পাননি। রাস্তায় ড্রেন নেই। এমন রাস্তায়ও ড্রেন থাকার কথা জানিয়ে বিল জমা দেওয়া হয়েছে। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। যারা দুর্নীতি করেছে, তারা এবার জেলের ভাত খাক। তৃণমূলের সব কাউন্সিলর দুর্নীতিতে যুক্ত। ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পৌর বোর্ডের সবাই যুক্ত।” তিনি জানান, যত তাড়াতাড়ি তদন্ত হবে বলে আধিকারিক আশ্বাস দিয়েছেন।
কী বলছেন পৌরপ্রধান?
যদিও বর্তমান পৌরসভার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে রঘুনাথপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি। তিনি বলেন, “দুর্নীতির কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বোর্ড অব কাউন্সিলে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁরা তদন্ত চাইছেন। তদন্ত হোক। আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। দুর্নীতির কোনও গল্প নেই।”