Purulia: কারও মাথার দাম ১৫ লক্ষ, কারও ৫ লক্ষ, পুলিশের জালে ৩ মাও নেতা-নেত্রী
Maoist leaders arrested: গ্রেফতার হলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী থানার কর্মাশোল গ্রামের বাসিন্দা তথা সিপিআই (মাওবাদী) রিজিওনাল কমিটির নেতা মদন মাহাতো ওরফে শঙ্কর। সরাইকেলা-খরসোওয়া জেলার নিমডি থানার বেনাডি গ্রামের তেধাডি টোলার বাসিন্দা সাগর সিং ওরফে বীরেন। পাশাপশি তাঁর স্ত্রী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলির বাঘমুন্ডি থানার আমকোচা গ্রামের মীরা পাহাড়িয়া ওরফে মিনাও গ্রেফতার হয়েছেন।

মানবাজার: দেশ মাওবাদী-মুক্ত হয়েছে। কিছুদিন আগেই এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে কোথাও কোথাও কয়েকজন মাওবাদী নেতা আত্মগোপন করে রয়েছে। তাদের ধরতে বার্তা দিয়েছেন শাহ। তারপরই ধরা পড়েছেন মাওবাদীদের পলিটব্যুরোর সদস্য মিসির বেসরা। এবার ঝাড়খণ্ড পুলিশের জালে ধরা পড়ল মাওবাদীদের বঙ্গ ব্রিগেডের ৩ মাও নেতা-নেত্রী।
মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা- খরসওয়া জেলার কাণ্ডরা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার হলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী থানার কর্মাশোল গ্রামের বাসিন্দা তথা সিপিআই (মাওবাদী) রিজিওনাল কমিটির নেতা মদন মাহাতো ওরফে শঙ্কর। সরাইকেলা-খরসোওয়া জেলার নিমডি থানার বেনাডি গ্রামের তেধাডি টোলার বাসিন্দা সাগর সিং ওরফে বীরেন। তিনি সিপিআই (মাওবাদী)-র সাব জোনাল কমান্ডার ছিলেন। পাশাপশি তাঁর স্ত্রী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলির বাঘমুন্ডি থানার আমকোচা গ্রামের মীরা পাহাড়িয়া ওরফে মিনাও গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি মাওবাদীদের সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ মদনের মাথার দাম রেখেছিল ১৫ লক্ষ। অন্যদিকে বীরেন এবং তাঁর স্ত্রী মীরার মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ করে। সোমবার বাংলা-ঝাড়খণ্ড সহ ৭ রাজ্যের পুলিশের ডিজিদের সঙ্গে বৈঠক করে কড়া বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার পরই টেকনিক্যাল ও ম্যানুয়াল সোর্স অ্যাক্টিভ করে জোরদার তল্লাশিতে নামে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে কাণ্ডরা থানা এলাকার উদয়পুর গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়িতে বীরেন আসেন। এই খবরের ভিত্তিতে দ্রুত যৌথ বাহিনী গ্রাম ঘিরে ফেলে। তার পর তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির ভেতর থেকে বীরেনকে পাকড়াও করে। ধৃতের কাছ থেকে একটি একে ৪৭, একটি ৯ এম এম পিস্তল, সহ প্রচুর কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার হয়। ধৃতকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে চান্ডিল থানা এলাকায় কাঁদেরবেড়া গ্রামে বুগরুন ওরফে গোপী পাহাড়িয়ার বাড়িতে মদন এবং মীরা পাহাড়িয়া রয়েছেন। তার পর আর একটি টিম দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাঁদের গ্রেফতার করে।
সম্প্রতি সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরোর সদস্য মিসির বেসরা গ্রেফতার হওয়ার পর একমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ বঙ্গ ব্রিগেডের ৮ সদস্যকে নিয়ে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম সীমানার ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে ফিরে আসেন। ২৪ বছর পর এই তল্লাটে ফিরে আসার পরও তাঁরা আত্মসমর্পণ না করে ফের সংগঠন গোছানোর কাজে জোর দিয়েছিল। সম্প্রতি আকাশ ও সচিন সহ ৬ জনের একটি দল পূর্ব দলমা এলাকায় আত্নগোপন করেন। সংগঠনের বিশেষ কাজে অন্য দু’দিকে ছড়িয়ে গিয়েছিল এই তিন সদস্য। এই তিন মাও নেতা-নেত্রীর গ্রেফতারকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। কারণ ধৃতদের জেরা করে এবার আকাশ-সচিনদের খোঁজ মিলবে বলে আশাবাদী ঝাড়খণ্ড পুলিশ।
