
পুরুলিয়া: পড়া না পারলে প্রায়শই কান ধরে ক্লাসের বাইরে বের করে দেন শিক্ষকরা। এ ছবি আমাদের সকলের চেনা। কিন্তু ঠিক যখন এর উল্টোটা হয়? অর্থাৎ শিক্ষকরা শাস্তি পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন স্কুলের বাইরে তখন সে দৃশ্য কেমন লাগে? এ কোনও গল্প কথা নয়, এই বাংলার একটি স্কুলে ঘটেছে এমন ঘটনা। পরে শিক্ষকদের অপমানে ঝাঁপিয়ে পড়ল স্কুলে ছোট-ছোট ছেলেমেয়েরা।
সুপ্রিম নির্দেশের পরও মিলছে না ডিএ। এর প্রতিবাদে ১৩ মার্চ একাধিক রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষক সংগঠন একযোগে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। সেই ধর্মঘটে সামিল হওয়ায় শিক্ষক -শিক্ষিকাদের চরম অপমান করার অভিযোগ উঠল স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রচণ্ড রোদে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল তাঁদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার বাগদা চন্দ্রকান্ত বিদ্যাপীঠের। রাজ্য সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করেই কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষিকা সামিল হয়েছিলেন ধর্মঘটে। হয়েছিলেন। অভিযোগ এরপরই বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি সহ তৃণমূলের লোকজন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকতে না দিয়ে শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
অভিযোগ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অপমানিত করা হয়। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে-থাকতে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক তপন গোপ। আর এরপরেই ঘটনা হিতে বিপরীতে দাঁড়ায়। প্রতিবাদ করে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে তারা। বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতিকে ঘিরেও চলতে থাকে বিক্ষোভ। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুঞ্চা থানার পুলিশ। বেগতিক বুঝে পালিয়ে যায় পরিচালন সমিতির সভাপতি সহ অন্যান্যরা। সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন স্কুলে প্রধান শিক্ষক। পরে দু’ঘণ্টা পর শুরু হয় ক্লাস।
সেই সময় দেখা গেল, পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে প্রধান শিক্ষক বললেন, “তোরা জানিস তোদের স্কুলে ছটা শিক্ষক নেই। আমরা চেষ্টা করছি এরপরও তোদের সিলেবাস শেষ করে দিতে। কিন্তু ভবিষ্যতে তোদের যাতে পড়াশোনায় অসুবিধা না হয়। আমরা সেই চেষ্টা করছি। আমরা সবাই মিলে আন্দোলন করছি। আর এক্স্ট্রা পিরিয়ডে পড়িয়ে দিয়ে মেকআপ দিয়ে দেব।”
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিমাই চক্রবর্তী বলেন, “ধর্মঘট ছিল ঠিক আছে। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকবে কেন? এটাই ব্যাখ্যা চাইব। হ্যাঁ আমরা বাধা দিয়েছি। পরে ঢুকতে দিয়েছি। অভিভাবকরা আমার কাছে জানতে চেয়েছে কেন স্কুল বন্ধ ছিল।” প্রধান শিক্ষক তপন গোপ বলেন, “আগেই বলেছি ধর্মঘটের দিন আসব না। পরের দিন দেখি গেটে তালা। প্রেসিডেন্ট রুলিং পার্টির লোক। আরও লোকজন আমাদের বলে আমরা যেন স্কুলে না ঢুকি। আমি অফেনডেড হই। আমি একটু চাপ অনুভব করি। তখনই অসুস্থ হয়ে পড়ি। তব এটা বলতে পারি এই সংস্কৃতি আমাদের স্কুলে ছিল না।” ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র সৌমেন কারক বলেন, “স্যরের দোষ নেই কোনও। হেড স্যরকে অপমান করেছেন ওরা।”