
ভাঙড়: রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রায়ই উত্তপ্ত হয়ে উঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। ভোটের আগে সেই ভাঙড়ে কি ফের উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা? রবিবার এক তৃণমূল কর্মীর পরিত্যক্ত বাড়িতে থেকে দুই ড্রাম ভর্তি বোমা উদ্ধারের পর এই প্রশ্ন উঠছে। পরস্পরকে নিশানা করছে আইএসএফ ও তৃণমূল কংগ্রেস। আইএসএফের অভিযোগ, ভোটের সময় গন্ডগোলের জন্য বোমা মজুত করা হচ্ছিল। আবার তৃণমূলের অভিযোগ, আইএসএফের লোকেরাই তৃণমূল কর্মীর পরিত্যক্তি বাড়িতে বোমা রেখেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ।
এদিন ভাঙড়ের ভোগালি ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পশ্চিম কাঁঠালিয়ার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে দুই ড্রাম বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল রাতে পশ্চিম কাঁঠালিয়া এলাকায় বোমাবাজির ঘটনার তদন্তে নেমে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পরই পুলিশ এই বোমা উদ্ধার করে। এদিন বোমা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড়ে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা। বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ফের আইএসএফের প্রার্থী হয়েছেন এখানে। আর ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। দুই দল পরস্পরকে নিশানা করে চলেছে। এরই মধ্যে তৃণমূল কর্মীর পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তরজা শুরু হয়েছে।
কী বলছে আইএসএফ?
আইএসএফের অঞ্চল সভাপতি অহিদুল ইসলাম বলেন, “যে বাড়ি থেকে বোমা পাওয়া গিয়েছে, সেই বাড়িটি কার? তৃণমূল নেতার। আমাদের কারও বাড়ি থেকে তো বোমা পাওয়া যায়নি। এখন বাঁচার জন্য তৃণমূল আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এর আগেও আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এই অরাজকতা বন্ধ করতে হবে। পুরো পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলকে উৎখাত করে ছাড়ব।
কী জবাব দিল তৃণমূল?
ভোগালি ২ নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি আলিনুর মোল্লা বলেন, “ওই বাড়িটা তৃণমূল কর্মী শরিফুলের ঠিকই। তবে গত দেড় থেকে দু’বছর ওই বাড়িতে তিনি থাকেন না। অন্য় বাড়িতে থাকেন। এই বাড়ি গুদামঘরে পরিণত হয়েছে। গতকাল রাতে আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গ্রামে বোমাবাজি করে। প্রশাসনকে জানানোর পর একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তারপরই এই বোমা উদ্ধার হয়।” আইএসএফ চক্রান্ত করে এই বোমা রেখেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।