
বারুইপুরে গণধর্ষণের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের তো রেয়াত করা হবেই না, পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি যারা নষ্ট করেছেন, এমনকী যারা এই ঘটনা নিয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছেন তাদেরও ছেড়ে কথা বলা হবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তিনি একযোগে নাম না করে তৃণমূল ও সিপিএম-কেও আক্রমণ শানিয়েছেন। এমনকী, পুলিশের হাতে কল-রেকর্ড এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু।
আজ পুলিশমন্ত্রী পুলিশকে বার্তা দিয়েছেন, এই ঘটনার জন্য যে বা যাঁরা দায়ি তাঁদের ছেড়ে কথা বলা হবে না। তারপরই শুভেন্দু বলেন, “যত গাড়ি ভেঙেছে, রেল লাইন উপড়েছেন। প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা গেছে। তাদের গ্রেফতার করা হবে।” এরপর নাম না করে সিপিএম ও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “পিছন থেকে যে সকল রাজনৈতিক ব্যক্তি উস্কেছেন তাঁদেরও ছেড়ে কথা বলা হবে না। যাঁরা ভোটে রিজেক্ট হয়েছেন, কেউ ক্ষমতা থেকে গেছেন, কেউ শূন্য থেকে ১ হয়েছেন। এছাড়া মৌলবাদী ও দেশ বিরোধী শক্তি পিছন থেকে উস্কেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব কল-রেকর্ডিং ইত্যাদি DGP-র নেতৃত্বে এসটিএফ সংগ্রহ করেছে। তাঁদেরও শিক্ষা দেওয়া হবে।” সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর নিয়ে শুভেন্দু এই প্রথম কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন না, তিনি ক্ষমতায় না থাকার আগেও বারবার এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করেছেন। এর আগে সিএএ আন্দোলনের সময় উত্তপ্ত হয়েছিল বাংলা। রক্ত ঝরেছিল পুলিশের। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল থানা। স্টেশনে আগুন লাগানো থেকে, রেললাইন ভাঙুচুর কী কী না হয়নি। তখনও তৎকালীন সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে সরব হয়েছিলেন আজকের মুখ্যমন্ত্রী তথা আগের বিরোধী দলনেতা। এখন তাঁর সরকার ক্ষমতায়। আর তিনি বারেবারে বলেছেন, পুলিশের গায়ে কেউ হাত দিলে পুলিশ মন্ত্রী হিসাবে তিনি মোটেই বরদাস্ত করবেন না।
এ দিন, শুভেন্দু অধিকারী গণপিটুনির ঘটনায় মৃত ব্যক্তিকে ইনোসেন্ট বলেছেন। তিনি বলেন, “পুলিশ আমায় যা বলেছে…আই অ্যম নট ইনভেস্টিগেটিং অথারিটি। গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে উনি ইনোসেন্ট। পুলিশ আমায় যা বলেছে, এটা আমার কথা নয়। তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমি দেখা করেছি। উনি জাস্টিস পাবেন।” অর্থাৎ তাঁর কথা অনুযায়ী ‘নিরীহ’ ব্যক্তিকে যে বা যারা মারধর করে প্রাণ কেড়েছে তাদেরও ছেড়ে কথা বলা হবে না।
এখানেই শেষ নয়, আরও বলেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে ২০০-র বেশি লোককে চিহ্নিত করা গেছে। তাঁদের পরিষ্কার বলে গেলাম, কারও ইন্ধনে রাজনৈতিক বায়াসনেন্স নিয়ে, মিডিয়াতে পাবলিসিটির লোভে, সোশ্যাল মিডিয়ায় চিপ ভিউয়ার্স বাড়ানোর জন্য উস্কানি দিয়েছেন তাঁদেরও ছাড়া হবে না ভুগবে। এইটুকু বলে দিলাম।”