
ফলতা: ছিলেন জরির কারিগর। সেখান থেকে তৃণমূল নেতা। আর আজ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান। পুলিশ জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করার পর একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় ১০০ বিঘা জমি জোর করে কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। পুলিশের কাছে সেই জমির নথিও জমা করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তারা চাইছে, পুলিশ ও ইডি তদন্ত করে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।
বিধানসভা ভোটের সময় থেকেই জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফলতার ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন তৃণমূল এই নেতা। বিধানসভা নির্বাচনে ফলতায় তৃণমূলের প্রার্থীও হন। তবে পরাজিত হন। রাজ্যে পালাবদলের পর নেপাল সীমান্ত থেকে ধরা পড়েন জাহাঙ্গির। আবার স্বামীকে জেল থেকে ছাড়াতে লোকজন নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন জাহাঙ্গিরের স্ত্রী সারিকা ও রেজিনা বিবি। তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজত শেষে জাহাঙ্গির এবং রেজিনা বিবিকে মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার মহাকুমা আদালতে তোলা হল।
জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফলতায় গরিব মানুষের কাছ থেকে বিপুল জমি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় FIR করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গির খান এবং তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা অগাধ সম্পত্তির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গিরের নামে চারটি এবং তাঁর স্ত্রী সারিকা ওরফে রেজিনা বিবি-সহ পরিবারের সদস্যদের নামে ৩৪টি সম্পত্তির নথি তুলে ধরে পুলিশ এবং ইডির কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছিলেন বিধান পাড়ুই। এর মধ্যে বেশ কিছু ভুয়ো সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কী বলছেন বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই?
জাহাঙ্গিরের ‘কীর্তি’ তুলে ধরে বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই বলেন, “ক্ষমতার অলিন্দে থেকে রাতারাতি কীভাবে কোটি কোটি টাকা মালিক হলেন জাহাঙ্গির খান, তা নিয়ে ২০২২ সালে অভিযোগ হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাছে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার অভিযোগ জানানো হয়। তার কোনও তদন্ত হয়নি। সেই তথ্য আমরা তুলে ধরেছি। জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর নামে বিঘা বিঘা জমি। বলপ্রয়োগ করে সেই জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নিজেদের নামে রেকর্ড করেছেন। আবার অনেক জমি কেড়ে নিলেও আইনি জটিলতায় রেকর্ড করতে পারেননি। নিজেদের জমিদার ভাবতেন। ৮০ থেকে ১০০ বিঘা জমির রেকর্ড আমরা ফলতা থানায় জমা দিয়েছি। এত জমি কী করে হল? জাহাঙ্গির জরির ওস্তাদার (কারিগর) ছিলেন। সেখান থেকে প্রধান হলেন। তারপর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। অবৈধভাবে জমি নেওয়া হয়েছে। ইডি ও ফলতা থানাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছি।”
রাজ্য সরকার একদিন আগেই বিধানসভা গুন্ডাদমন বিল পাশ করেছে। সেকথা উল্লেখ করে বিধান পাড়ুই বলেন, “জাহাঙ্গিরের তিনতলা বাড়িটাও অবৈধভাবে হয়েছে। সেটাও জানিয়েছি। সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়েছি।”
জাহাঙ্গিরের দলবলের হাতে আক্রান্ত এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ভুয়ো সম্পত্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়। আমি নিজে একজন ভুক্তভোগী। তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনী আমার স্ত্রী ও আমার উপর হামলা চালিয়েছিল। সেইসময় প্রশাসন কোনও তৎপরতা দেখায়নি। বেশিরভাগটাই জোর করে নিয়েছেন। আমরা জানি, পুলিশ ঠিক মতো কাজ করলেও তাঁদের নামে আরও সম্পত্তির হদিশ পাওয়া যাবে।”