কলকাতা: শনিবারের ভরদুপুরে বীভৎস আগুন আক্রা-সন্তোষপুরে। পুরে খাক একাধিক বস্তি। গলগল করে বেরচ্ছে ধোঁয়া। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে পুড়ে গিয়েছে রেললাইনের ওভারহেডের তার। যার জেরে স্থগিত রয়েছে ট্রেন চলাচল। গোটা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে পুরো এলাকা। অভিযোগ দীর্ঘক্ষণ আগুন লাগার পরও দমকল এসে উপস্থিত হয়নি।
আগুনের শেষ আপডেট একনজরে
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “২৯ তারিখ ভোট দেব। সব পুড়ে গেছে ভোটার কার্ড। আমরা ঘরে ভাত খাচ্ছি। সেই সময় দেখি আগুনের গোলা….বেরতে না বেরতেই সব শেষ। সব পুড়ে গেল…আর কিছু নেই। আধার ভোটার সব পুড়ে গেছে। ৬ থেকে ৭টা বাচ্চাকে পাওয়া যাচ্ছে না। দুটো দমকলের গাড়ি এসেছে। একটায় জল আছে, আর একটায় জল নেই। আগুন দেখে একজন লাফ মেরেছিল পুকুরে। তার খোঁজ মিলছে না। আর একজনের গায়ে ট্রেনের তার পড়ে তাঁর চামড়া পুড়ে গেছে। এবার ভোট চাইতে আসুক…একটা প্রোটেকশন দিতে পারে না। কিছু নিতে পারিনি। শুধু জীবনটুকু নিয়ে চলে এসেছি।”
স্থানীয় এক ঝুপড়িবাসী বলেন, “বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।” দমকলের ভূমিকায় বিস্তর ক্ষোভ সাধারণ মানুষের। অভিযোগ, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দমকলের জল শেষ হয়ে যায়। এলাকার মানুষ বালতি করে জল দেয়। প্রচুর ঝুপড়ি পুড়ে একদম ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বেশ কয়েকজন শিশুর খোঁজ মিলছে না। মানুষজন বুঝতে পারছেন না, বাচ্চারা কোথায় গিয়েছে। কারণ গোটা জায়গা ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছএ।
তমোনাথ ভৌমিক বলেন, “নির্বাচন এলেই বারোমাস তৃণমূলের তরফে আগুন ধরানো হয়। মানুষকে বিপদে ফেলা হয়। এই বস্তিতে আগুনে পুড়ে আগেও মানুষ মারা গেছে। এটা পুরো চক্রান্ত। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটা নির্বাচন এলেই এমন হয়।”
মহেশতলার সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঘটনা যখন ঘটেছে, মানুষ ছোটাছুটি করছেন তখন প্রশাসনের কোনও দেখা নেই। আমরা এখন ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।”
এদিকে আগুন লেগে সব পুড়ে শেষ ঝুপড়িবাসীর। হাউহাউ করে কাঁদছেন মহিলারা। কী করবেন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সকলে। এ দিকে, বস্তি অনেকটাই বড়। পুরো ঘিঞ্জি এলাকা। সেই কারণে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়েছে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, কেউ আটকে নেই।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শুভাশিস দাস বলেন, “আমরা এখানে আছি। কীভাবে আগুন লেগেছে এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি না। এখানে দমকলের দুটো ইঞ্জিন এসেছে। আরও গাড়ি আসছে। তবে বিশাল আগুন লেগেছে।”
জানা যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টি ঝুপড়ে পুড়ে গিয়েছে। বজবজ-শিয়ালদহ ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। পুড়েছে ওভারহেট তার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার দুপুর ১টা বেজে ৪০ মিনিট নাগাদ আগুন লেগে যায়। প্রাথমিক অনুমান, শর্ট-সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। দমকলকে খবর দেওয়া হয়। তবে, প্রথমে সাধারণ মানুষই আগুন নেভাতে কাজ করে।