
মহেশতলা: সবে তখন দুপুর। কেউ ভাত খাচ্ছিলেন। কেউ সদ্য ভাত খেতে বসেছিলেন। কিন্তু তারপর সবটা শেষ। বীভৎস অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকলেন আক্রা-সন্তোষপুরের ১৬ বিঘে বস্তির মানুষজন। চোখের সামনে দেখলেন সাজানো-গোছানো ছোট্ট ঘর আর নেই। পুড়ে সব শেষ। কিচ্ছু নিয়ে বেরতে পারেননি ঝুপড়িবাসীরা। শুধু প্রাণটুকু সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন তাঁরা। একজন বললেন, “২৯ তারিখ ভোট…ভোটার কার্ড সব পুড়ে গেছে…।” আর একজন বললেন, “আসুক ভোট চাইতে…আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না…না মোদী- না দিদি।” একই সঙ্গে এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ৫ জন শিশুর খোঁজ মিলছে না।
ঘড়ির কাঁটায় তখন ১টা বেজে ৪০ মিনিট। আক্রা-সন্তোষপুরের বস্তিতে আগুন লেগে যায়। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তে আগুনের লেলিহান গ্রাসে ঢেকে যায় গোটা এলাকা। কালো ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস নেওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে। দমকলকে খবর দেওয়া হলেও যথা সময়ে আসেনি বলে অভিযোগ। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দমকলের দু’টি ইঞ্জিন এসেছিল। তার মধ্যে একটায় জল ছিল আর একটা খালি।”
এ দিকে, এই ঘটনার পর বিস্তর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ট্রেনের ওভারহেডের তার ছিঁড়ে পড়ে আহত একজন। তিনি বলেন, “আর একজনের গায়ে ট্রেনের তার পড়ে তাঁর চামড়া পুড়ে গেছে।” অপর এক মহিলা বলেন, “আগুন দেখে একজন লাফ মেরেছিল পুকুরে। তার খোঁজ মিলছে না।” এলাকার বাসিন্দারা এও জানিয়েছেন, প্রায় ৪ থেকে পাঁচজন বাচ্চা মিসিং। তাঁদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এক ব্যক্তি বলেন, “২৯ তারিখ ভোট দেব। সব পুড়ে গেছে ভোটার কার্ড। আমরা ঘরে ভাত খাচ্ছি। সেই সময় দেখি আগুনের গোলা….বেরতে না বেরতেই সব শেষ। সব পুড়ে গেল…আর কিছু নেই। আধার ভোটার সব পুড়ে গেছে। ৬ থেকে ৭টা বাচ্চাকে পাওয়া যাচ্ছে না।”