
সোনারপুর: বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির মতোই। কিন্তু ভিতর-ভিতর এই ইনোভা কিংবা জাইলোর পিছনের সিট খুলে তৈরি করা হত গোপন জায়গা। আর সেখানেই তোলা হত চুরি করা গরু (Cow)। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এভাবেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গরু পাচার (Cow Smuggling) করা হত বলে দাবি তদন্তকারীদের। সোনারপুরে গরু চুরির একটি ঘটনার তদন্তে নেমে এমনই একটি চক্রের হদিস পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে আজগার ফকির নামে এক ব্যক্তিকে। তাঁর বাড়ি মগরাহাট এলাকায়। পুলিশের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সক্রিয় গরু চুরি ও পাচার চক্রের অন্যতম মাথা আজগার।
পুলিশ সূত্রের দাবি, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে এই চক্রের সদস্যরা। সুযোগ বুঝে প্রথমে গরু চুরি করা হত। এরপর সেই গরু সরিয়ে নিয়ে যেতে ব্যবহার করা হত সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ি। ইনোভা বা জাইলোর মতো গাড়ির পিছনের সিট খুলে সেখানে গরু তুলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হত। ফলে বাইরে থেকে দেখে গাড়ির ভিতরে কী রয়েছে, তা সহজে বোঝার উপায় থাকত না।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, একটা সময়ে বাংলাদেশে গরু পাচারের সঙ্গেও যুক্ত ছিল আজগার। পরে সীমান্ত পেরিয়ে পাচার কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রের কৌশল বদলায়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক সূত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করে সোনারপুর থানার পুলিশ। তদন্তে আজগার ফকিরের নাম উঠে আসার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে আজগারকে গ্রেফতার করেই তদন্ত শেষ করতে চাইছে না পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজ চলছে।
কারা গরু চুরি করত, কোন কোন এলাকায় চক্রটি সক্রিয়, চুরি করা গরু কোথায় নিয়ে যাওয়া হত এবং পাচারের কাজে আর কতগুলি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের অনুমান, এর পিছনে আরও বড় নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। সেই নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে সোনারপুর থানার পুলিশ।