
শিলিগুড়ি : বেআইনিভাবে জমি দখলের অভিযোগ। তারপরই তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল দুই নেতাকে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পরে দুই নেতাকে জেলেও যেতে হয়। এবার তাঁদেরই দলে ফেরাতে চলেছে তৃণমূল? ইতিমধ্যেই নাকি তোরজোড় শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। ভোট বৈতরণি পার হতেই তাঁদের দলে ফেরানোর ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে। ভোটের আগে কোন রাজনৈতিক চিত্র দেখা যেতে চলেছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধানসভা কেন্দ্রে?
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বেআইনি জমি কারবার নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল রাজ্য-রাজনীতিতে। শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই বেআইনি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। তার জন্য অস্বস্তিতে পড়তে হয় তৃণমূলকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে, তা বুঝতে পেরেই কড়া পদক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী জমির কারবার নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। কড়া ভাষায় তিনি বলেছিলে,”একটা কাককে মেরে ঝুলিয়ে দিলেই বাকিরা সতর্ক হবে। এরপরেই তড়িঘড়ি ব্লক সভাপতি দেবাশিষ প্রামাণিক ও ব্লক যুব সভাপতি গৌতম গোস্বামীকে বহিষ্কার করে দল। পুলিশ মামলা রুজু করে গ্রেফতার করে দুই নেতাকে। আপাতত দুই নেতা এখন জামিনে মুক্ত।
জানা গিয়েছে, ভোটের মুখে দুই বহিষ্কৃত নেতাকে ফেরাতে তৎপর তৃণমূলের একটা বড় অংশ। যেখানে খোদ দলনেত্রীর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল ওই দুই নেতাকে,সেখানে কীভাবে ফের তাঁদের দলে ফেরানোর ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে? এই বিষয়ে টাউন তৃণমূলের সভাপতি জয়দীপ নন্দীর সাফাই,”বিচার চলছে। অন্যায় করে থাকলে শাস্তি হবে। তাঁরা দক্ষ সংগঠক। তাই তাঁদের দলে নেওয়া হোক। আমরা দলকে বারবার বলছি।” বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী রঞ্জন শীলশর্মা।
যদিও শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব দাবি করেছেন, দুই তৃণমূল নেতাকে ফেরানোর দাবি এসেছে। দলের অন্দরে আলোচনা চলছে। দলে ওদের ফেরানো হবে কিনা তা আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে খবর।
বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন,”জমির কারবারীরাই ওদের সম্পদ। দলের নেত্রীই অভিযোগ তুললেন। শাস্তি হল। ভোট আসতেই সেই নেতাকে আবার দলে নেওয়া হচ্ছে। ভোট এলেই কি সব দোষ, পাপস্খলন হয়ে গেল? এসব মানুষ ভালভাবে নেবে না৷ ওদের জমির কারবারের বিরুদ্ধেই তো আমার লড়াই।
এই বিষয়ে শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ বলেন, “আসলে তৃণমূল একটা কোম্পানি। জমির কারবার ওদের ব্যবসা। তাই এসব ঘটে। এলাকার বাসিন্দারা সাবধান। ওরা জিতলে ফের জমি বেদখল হয়ে যেতে পারে।”