
চোপড়া: দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক মামলায় অভিযুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তবুও তৎকালীন তৃণমূল শাসনকালে এলাকায় দাপটের সঙ্গেই ঘোরাফেরা করতেন। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গোপাল ভৌমিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার নেপালে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে চোপড়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
গোপাল ভৌমিক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির স্বামী। স্থানীয়দের অভিযোগ, সভাপতির দফতরে কার্যত স্ত্রীর পরিবর্তে গোপাল ভৌমিকই বসতেন এবং প্রশাসনিক নানা কাজে প্রভাব খাটাতেন। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ঘটে আসা বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সঙ্গে গোপাল ভৌমিকের নাম জড়িয়েছিল। একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে সরব হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেও দাবি বিজেপির। পাশাপাশি এলাকার চা বাগানগুলিতে শ্রমিক শোষণ এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। ৮০টি আসন পেয়েছে ঘাসফুল শিবির। রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড় দেখা গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনে। ২০৭টি আসন পেয়েছে বিজেপি। শনিবার বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা দখলের পরই পদ্ম শিবিরের নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, তৃণমূল আমলে সব দুর্নীতি খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতিতে যুক্ত কেউ ছাড়া পাবেন না। দুর্নীতির পাশাপাশি হিংসা-সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসতেই চোপড়ার এই প্রভাবশালী নেতা গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর। এবার তিনি নেপালে পালিয়ে যাওয়ারও ছক কষেন। গোপন সূত্রে সেই ছকের কথা জানতে পেরে যায় পুলিশ। নেপালে পালিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই গ্রেফতারির সূত্রে আরও কারও নাম উঠে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।