
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ। তিন বছর দু’মাসে আমেরিকায় অন্তত ২৪ জন বিজ্ঞানী ও গবেষক রহস্যজনকভাবে মারা গিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। খাতায়-কলমে সংখ্যাটা ১০ থেকে ১১ হলেও, প্রকৃত সংখ্যা তার প্রায় দ্বিগুণ বলে দাবি উঠেছে। মৃত বা নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক পরমাণু বিজ্ঞানী, মহাকাশ গবেষক, নাসার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞ এবং বেশ কয়েকজন পরিচিত ইউএফও বিশেষজ্ঞ, যারা দীর্ঘদিন ধরে ভিনগ্রহের প্রাণী নিয়ে গবেষণা করছিলেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এতজন বিজ্ঞানীর মৃত্যু নিয়ে এতদিন মার্কিন প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট কোনও তথ্য ছিল না। কয়েকদিন আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিটের সাংবাদিক বৈঠকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিনিধি এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। উত্তরে ক্যারোলিন বলেন, “তাই নাকি? আমি তো বিষয়টা জানতামই না। আচ্ছা, খোঁজ নিয়ে জানাব। অভিযোগ সত্যি হলে বিষয়টা গুরুতর।”
যদিও ক্যারোলিন বিষয়টি না-জানতে পারেন, মার্কিন প্রশাসন যে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল, তা নয়। গত নভেম্বরে ইউনাইটেড সায়েন্স কংগ্রেস এই বিষয়টি নিয়ে সেনেটে আলোচনার দাবি তুলেছিল। তবে তখন সেই আলোচনা হয়নি। এনিয়ে বিতর্ক বাড়তেই ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, শুধু সেনেটে আলোচনা নয়, এতজন বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। পেন্টাগন এবং সিআইএ যৌথভাবে তদন্ত করবে। ইউএফও-গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের মৃত্যুর তদন্তে সাহায্য করবে নাসা। কারণ, এদের কয়েকজনের মৃত্যুর কোনও ব্যাখ্যাই এখনও মেলেনি।
UFO অর্থাৎ অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু বা ভিনগ্রহের প্রাণীর উপস্থিতি নিয়ে আমেরিকায় বহুদিন ধরেই জল্পনা রয়েছে। মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আকাশে উড়ন্ত চাকতির মতো অচেনা বস্তু দেখা যায়। বহু বছর ধরে এমন ঘটনা ঘটছে, এমনকি কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারাও এতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে মোট ১৪৪টি ইউএফও-র দেখা মিলেছে। ২০২১ সালের পর এই ধরনের অজানা বস্তুর আনাগোনা আরও বেড়ে যায়। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কয়েকশো ইউএফও দেখা গেছে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক অচেনা উড়ন্ত বস্তুর খবর এসেছে, যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে UFO বা অজানা উড়ন্ত বস্তুদের গতিবিধি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল জো বাইডেন প্রশাসন। নাসাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিষয়টি খতিয়ে দেখার। সাত মাস পর রিপোর্ট জমা পড়ে।
রিপোর্টে নাসা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি। সংস্থার বক্তব্য ছিল, ইউএফও আগে যেমন রহস্য ছিল, এখনও তেমনই রহস্য রয়ে গেছে। এলিয়েন যে রয়েছে এবং ইউএফও-র সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পর্ক আছে, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। আবার ইউএফও বলে কিছু নেই বা ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নেই, এ কথাও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
নাসা স্পষ্ট জানায়, “আমরা বলতে পারি না ইউএফও নেই বা ভিনগ্রহে প্রাণ নেই। আবার তারা আছেই, এমনটাও বলার মতো জায়গায় আমরা নেই। আমরা কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ পাইনি।”রিপোর্ট প্রকাশের পর নাসার প্রধান ব্যক্তিগতভাবে মন্তব্য করেন, “আমি মনে করি ওরা আছে। ইউএফও আছে। ভিনগ্রহের প্রাণীরাও আছে। কোনওকিছুই ভুল নয়। আমরা তাদের হদিশ পাচ্ছি না মানে এই নয় যে তারা নেই।”
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, বিজ্ঞানীদের রহস্যমৃত্যুর সঙ্গে কি ইউএফও বা ভিনগ্রহের প্রাণীদের কোনও যোগ রয়েছে? এই প্রশ্ন শুধু জনমনে নয়, মার্কিন রাজনীতিতেও উঠেছে। তিনজন মার্কিন সেনেটর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে এই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তাহলে কারা এই ভিনগ্রহের প্রাণী? তাদের নিয়ে এত আলোচনা হলেও, কেন তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে, এই প্রশ্নই এখন নতুন করে ঘুরছে আমেরিকার রাজনীতি ও বিজ্ঞান মহলে।