
কিয়েভ: গতকালই প্রত্যাশিতভাবে ইউক্রেন আক্রমণ করেছে রাশিয়া (Russia-Ukraine Conflict)। আজ শুক্রবার রাশিয়ার আক্রমণ দ্বিতীয় দিনে পা দিল। ইউক্রেন ন্যাটোর (NATO) সদস্যপদ পেতে আগ্রহ দেখিয়েছিল বলেই রাশিয়ান আক্রমণ, অন্তত এমনটাই দাবি করছিলেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। এবার আমেরিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ গুলির সামরিক সংগঠন ন্যাটো-কে নিয়ে একরাশ বিরক্তি প্রকাশ করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোডমির জ়েলেনস্কি (Volodymyr Zelenskiy)। ইউরোপীয় দেশগুলির রাষ্ট্রনায়কদেরও নিশানা করতে ছাড়েননি জ়েলেনস্কি। রাশিয়ান আগ্রাসনের মাঝেও মুখে কুলুপ এঁটেছে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি, সেখানেই আপত্তি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের। মাঝরাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে জ়েলেনস্কি জানিয়েছেন, ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে তিনি ২৭ টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, কিন্তু কেউই তাঁকে ইতিবাচক কোনও উত্তর দেয়নি। জ়েলেনস্কি বলেন, “ইউক্রেন ন্যাটোতে থাকবে কিনা এই নিয়ে আমি ২৭ জন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যেকে ভীত, কেউ উত্তর দেয়নি।”
ন্যাটো সাধারণত আমেরিকার নেতৃত্বেই চলে, অন্যান্য সদস্য দেশগুলির মধ্যে ফ্রান্স, ব্রিটেন, পোল্যান্ডের মতো দেশগুলি রয়েছে। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পরোক্ষে আমেরিকাকেও খোঁচা দিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ ইউক্রেনবাসীদের ‘হিরো’ আখ্যা দিয়েছেন জেলেনস্কি কারণ রাশিয়ার এই আগ্রাসী আচরণের পরেও তারা দেশের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়ে জ়েলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন সেনা ‘যথা সম্ভব চেষ্টা করছে’ দেশকে রক্ষা করার। সাধারণ নাগরিকদের জারি হওয়া যাবতীয় নিয়ম ও কার্ফু মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন জ়েলেনস্কি পাশাপাশি তিনি সাবধান করে জানিয়েছেন রাশিয়ার আত্মঘাতী গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই ইউক্রেনে প্রবেশ করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, রাশিয়া যতই আগ্রাসী আচরণ করুক না কেন আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনীতির কারণে তাদের আলোচনার টেবিলে বসতেই হবে। রাশিয়ান নাগরিকদেরকেও তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এদিন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জ়েলেনস্কি। “শত্রুদের প্রথম লক্ষ্য আমি, দ্বিতীয় লক্ষ্য আমার পরিবার। দেশের প্রধানকে ধ্বংস করে দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক ভাবে ওরা ইউক্রেনকে শেষ করে দিতে চায়। আমি রাজধানীতেই থাকব এবং আমার পরিবারও ইউক্রেনেই রয়েছে।”
আরও পড়ুন Russia-Ukraine Conflict: কিয়েভ দখলে মারাত্মক কৌশল! ইউক্রেনিয়ান সেনার পোশাকে ওঁরা কারা?