
জাকার্তা: ইন্দোনেশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। সেখানে তিনি ঘুরে দেখলেন ঐতিহাসিক প্রামবানান মন্দির (Prambanan Temple)। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লুকিয়ে রয়েছে এই মন্দিরে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্দির দর্শনের সঙ্গে সঙ্গেই আরও একবার চর্চায় এসেছে বিভিন্ন দেশে ভারত সরকারের উদ্যোগে মন্দির পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে গত এক দশকে প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক ঐতিহাসিক মন্দির ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারত।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দির, যা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর সময় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, তার পুনর্নির্মাণে ভারতের সহায়তা ঘোষণা করে মোদী সরকার। ২০২১ সালে মন্দিরটির উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থানকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করা হয়। দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বন্ধনও আরও মজবুত হয় এই কালী মন্দিরের সংস্কারের মাধ্যমে।
শুধু রমনা কালী মন্দিরই নয়, ভারতের অনুদানে বাংলাদেশের নাটোরে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো জয় কালী মাতা মন্দিরও পুনর্নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি আনন্দময়ী কালী মাতা মন্দির এবং রামকৃষ্ণ মন্দির-এর সংস্কারেও সহায়তা করেছে ভারত সরকার।
২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত মউ-র ভিত্তিতে ইউনেসকো (UNESCO)-র ঘোষিত মাই সন অভয়ারণ্য পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে ভারত। এটি ছিল প্রাচীন চম্পা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম ঐতিহাসিক মন্দির চত্বর। চতুর্থ থেকে ১৪ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল এই মন্দিরগুলি। শিবের উপাসনা হত এই মন্দিরে।
২০১৭ সালে ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় একটি মউ চুক্তি। এর আওতায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বাগান প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল-এর ১২টি ঐতিহাসিক প্যাগোডা সংস্কার করে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (ASI)। পাশাপাশি ঐতিহাসিক আনন্দ মন্দির-এর সংস্কারের কাজও সম্পন্ন করা হয়।
২০১৫ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ভারত ৫ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা পাঠায় নেপালকে। এই অর্থ দিয়ে নেপালের ২৮টি ঐতিহ্যবাহী ঐতিহ্যবাহী স্থান সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে সেতো মচ্ছিন্দ্রনাথ মন্দির, বুধানীলকণ্ঠ মন্দির ধর্মশালা-সহ একাধিক ঐতিহাসিক স্থান।
২০২২ সাল থেকে ভারত সরকার কম্বোডিয়ার অঙ্কোর ভাট, তা প্রহম এবং প্রেহ বিহিয়ার-সহ ইউনেসকো স্বীকৃত অঙ্কোর হেরিটেজ কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হিন্দু সভ্যতার নিদর্শন হিসাবে এই ঐতিহ্য রক্ষায় ভারতের ভূমিকা আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে।
২০২৪ সালে ভারত ইউনেসকো স্বীকৃত প্রায় ১০০০ বছরের পুরনো ভাট ফু (Vat Phou) শিব মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনরুদ্ধার করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সনাতন সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হিসাবে এই মন্দিরের বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।
২০১৯ সালে বাহরিন সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মানামার ২০০ বছরের পুরনো শ্রীনাথজি (শ্রীকৃষ্ণ) মন্দির-এর পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর জন্য ৪.২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি বাহরিন তথা উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন হিন্দু মন্দির।
২০১৫ সালে ভারত সরকারের উদ্যোগে শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক তিরুকেতীশ্বরম মন্দির পুনরুদ্ধারের জন্য মউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩২৬ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি অনুদানের মাধ্যমে এই প্রাচীন শিব মন্দিরের সংস্কারের কাজ শুরু হয়। এটি শ্রীলঙ্কার পাঁচটি প্রাচীন পঞ্চ ঈশ্বরম-এর অন্যতম।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফরের প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পগুলি ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতি (Cultural Diplomacy) এবং প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে হাজার বছরের সভ্যতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।