
ঢাকা: পুলিশকর্তার সামনে বসেই ছাত্রনেতা বলছেন,’আমরা বানিয়াচং থানা কিন্তু পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরাই জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’ আপাতত সমাজমাধ্য়ম জুড়ে ভাইরাল হয়েছে এই ভিডিয়ো। পুলিশের সামনেই নিজেকে জুলাই আন্দোলনে ‘অক্সিজেন’ জোগানে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ সংগঠনের ছাত্রনেতা বলে পরিচয় দেন ওই যুবক। তারপর শোনা যায় এই কথা।
৫ই অগস্ট, বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটচিত্র। মাস কয়েক ধরে চলা হাসিনা-বিরোধী আন্দোলন পেয়েছিল নতুন গতি। দেশছাড়া হতে হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে। তবে সেদিন শুধু হাসিনার রাজনৈতিক জীবন ছাড়খাড় হয়ে যায়নি। তাঁর মতো ছাড়খাড় হয়ে গিয়েছিল শত-শত মানুষের জীবন। যাদের সঙ্গে যোগ নেই রাজনীতির, যোগ নেই আওয়ামী লিগের। কেউ হিন্দু, কেউ বা সেনাকর্মী, কেউ আবার পুলিশ।
এদের মধ্য়েই একটি পরিচিত নাম সন্তোষ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচাং থানার পুলিশকর্মী ছিলেন। পদমর্যাদায় সাব-ইন্সপেক্টর। অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীরা বানিয়াচং থানায় হামলা চালিয়েছিল। অভিযোগ তুলেছিল, পুলিশ গ্রামবাসীদের হত্যা করছে। তারপর সেই থানায় ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। ধরিয়ে দেয় আগুন। এই ঘটনায় জ্বালিয়ে হত্য়া করা হয়েছিল এসআই সন্তোষকেও। থানার সামনে থেকেই উদ্ধার হয়েছিল তাঁর ঝুলন্ত দেহ।
গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠনের এক ছাত্রনেতাকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আটক করতেই ফিরে এল সেই এসআই সন্তোষের নাম। আটক হওয়া ওই ছাত্রনেতার নাম নয়ন। তাঁর আটকের ঘটনায় শুক্রবার থানা ঘেরাও করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রনেতারা। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে থানার অন্দরে বাকবিতণ্ডা হয় তাঁদের। যার ভিডিয়ো আপাতত ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
ভিডিয়ো (টিভি৯ বাংলা যাচাই করেনি) শোনা গিয়েছে, শায়েস্তাগঞ্জ থনার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে কথা বলছেন মাহদী হাসান। তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। তারপর বলেন, ‘আমরা এই সরকার গঠন করেছি। আপনারা (পুলিশকর্তা) আমাদের প্রশাসনের লোক। অথচ আমাদের ছেলেকেই ধরে নিয়ে এলেন।’
মাহদীর সংযোজন, ‘এই জেলায় গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছে। বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকেও জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’ কিন্তু এই রকম মন্তব্যের পরেও মাহদীর গায়ে একটা আঁচড় পড়েনি। ছাত্রলিগ নিষিদ্ধ হওয়ায় নয়নকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু মাহদীরা থানায় এসে তাঁর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ থাকার পরিচয় দিতেই ছাড়া পেয়েছেন নয়ন। কিন্তু এসআই সন্তোষ কি বিচার পেলেন? ওই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর অস্বস্তির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পুলিশ-প্রশাসন। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে মাহদীকে। তবে কতক্ষণই বা তিনি হেফাজতে থাকেন, তা নিয়েই আশঙ্কা একাংশের।