
নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িক ভাবে কারাগার হিসাবে ঘোষণা করল ইউনূস সরকার। কিন্তু হঠাৎ করেই কেন সেনানিবাসকে জেলখানায় পরিণত করতে হল তাঁদের? এই অস্থায়ী কারাগার তৈরির নেপথ্য় রয়েছে শেখ হাসিনার আমলে ‘গুম করে নির্যাতন’ এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এ জড়িত থাকা অভিযুক্ত ১৫ সেনাকর্তার হেফাজত প্রসঙ্গ, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। ইতিমধ্যে এই অভিযুক্ত সেনাকর্তাদের হেফাজতে নিয়েছে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। তারপরই গঠন অস্থায়ী জেলখানা।
রবিবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ‘ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন এমইএস বিল্ডিং-কে সাময়িকভাবে জেলখানা হিসাবে রূপান্তর করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মতোই এই আদেশ জারি করা হয়েছে। যা অবিলম্বে কার্যকরও করা হয়েছে।’ অবশ্য, এই অস্থায়ী কারাগারে কাদের বন্দি হিসাবে রাখা হবে, সেই সংক্রান্ত এখনও কোনও তথ্য প্রদান করেনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
গত বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে তিনটি মামলায় বাংলাদেশের ২৫ জন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। যার মধ্য়ে ১৫ জন এখনও সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং একজন অবসর নেওয়ার আগে ছুটিতে রয়েছেন। এই ১৬ জনের মধ্যে পূর্বতন শেখ হাসিনার সরকারের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি সকলকেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অবশ্য়, সেনার অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর হাকিমুজ্জামান সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, কবীর ‘আত্মগোপন’ করেছেন। তাই তাঁর হদিশ পাওয়া সম্ভব হয়নি।
কিন্তু এঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ? বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, শেখ হাসিনার আমলে ‘গুম করে নির্যাতন’ এবং জুলাই গণঅভ্য়ুত্থানের সময়ে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এ জড়িত থাকার অভিযোগেই এঁদের হেফাজতে নিয়েছে সেনা। অবশ্য, কেন গ্রেফতার করা হয়নি, তাঁদের সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একাংশ। হাসিনার আমলে তাঁদের ‘দৌরাত্ম্য’ নিয়ে অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের সেনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেকেই। যা ঘিরে চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের মনেও।