
দীপেন্দু পাল
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসে ডিনার সারতে চান? তাও আবার তাঁরই প্রাইভেট ভিলাতে বসে? ফ্লোরিডা-র পাম বিচে ট্রাম্পের বিলাসবহুল মার-এ-লাগো এস্টেটে বসে ডিনারের সুযোগ এবার খুলে গিয়েছে জনসাধারণের জন্য। একটু ভুল বললাম! সুযোগ মিলছে, তবে সেটা সাধারণের জন্য কি? কারণ আপাতত ধনকুবেররাই অকাতরে অর্থ বিলোচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডিনার করতে। আক্ষরিক অর্থেই ‘সুবর্ণ’ সুযোগ। কারণ, এই ডিনারের খরচ সোনার মতোই বা তার চেয়েও দামি। সূত্র বলছে, ট্রাম্পের সঙ্গে একান্তে নৈশভোজের খরচ ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় টাকায় প্রায় ৪৪ কোটি টাকার কাছাকাছি। তা বলে ভাববেন না, কে খেতে যাবে এত টাকা খরচ করে? কারণ, দেশ বিদেশের অতিথিরা ‘পোটাস’-এর (মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যে নামে ডাকেন তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা) সঙ্গে নৈশভোজের জন্য টাকা খরচে এতটুকু কার্পণ্য করছেন না।
‘ওয়ার’-এর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত সপ্তাহের শনিবার থেকে ট্রাম্প লোকচক্ষুর আড়ালে তাঁর ফ্লোরিডা বিচের এস্টেটে নৈশভোজের আয়োজন করছেন। অতিথিরা মোটা ডলারের বিনিময়ে সেখানে নিজেদের জন্য আসন সংরক্ষণ করতে পারবেন। প্রতি আসনপিছু খরচ ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার বা ৯ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিশেষ ক্যান্ডেল লাইট ডিনার বা আলো-আঁধারিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে নৈশভোজের জন্য ৪৪ কোটি টাকা খরচ করলেই চলবে। পুরোটাই চলছে অত্যন্ত গোপনে ও লুকিয়ে। অতিথিরা আমন্ত্রণ পেতে চাইলে তাঁদের কাছে পুরোটা একবারে খোলসা করা হচ্ছে না। মেসেজে বলা হচ্ছে, ধাপে ধাপে বিস্তারিত তথ্য পেতে থাকবেন।
আমন্ত্রণপত্রে লেখা থাকছে, ‘ডোনাল্ড জুনিয়র ট্রাম্প এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানের আসন সংখ্যা সীমিত। আগে এলে আগে বসতে পারবেন ভিত্তিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ। আসন সংরক্ষণের খরচ ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার। বাকি তথ্য আপনাকে পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্প এই অনুষ্ঠানের জন্য কোনও অনুদান (ডোনেশন) বা অর্থ সাহায্য চাইছেন না।’ এটাই প্রথম নয়, এর আগেও ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের খরচ তুলতে প্রায় এইরকমই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ৪০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছিলেন বলে খবর ওয়াশিংটন পোস্ট সূত্রে। এমনকী, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দুই জায়গায় একইরকম ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের আয়োজন করেছিলেন মোটা টাকার বিনিময়ে। তবে এই বিপুল অর্থ কোথায় খরচ হবে, সেটা এখনও জানা যায়নি।
এই বিশেষ নৈশভোজ নিয়ে লুকোছাপা থাকলেও বৈভবের প্রদর্শনে কখনই পিছপা হন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকী তাঁর কাছের বন্ধুরাও তাঁরই মতো ধনবান ও প্রভাবশালী। ইলন মাস্কের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব নিয়ে অনেক সমালোচনা হলে তাকে পাত্তা দেন না ট্রাম্প। অধুনা মেটা (ফেসবুক) কর্তা জুকারবার্গ বা আমাজনের কর্ণধার জেফ বেজোস তাঁর বিশেষ বন্ধু। ট্রাম্পের শপথগ্রহণে তাঁদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষিত ছিল।