
ওয়াশিংটন : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরিবর্তে দিন দিন জটিল হচ্ছে। কখনও আমেরিকা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিচ্ছে, কখনও ইরান সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে নতুন করে শর্ত দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকের দিকেই এগোচ্ছে। এসবের মধ্যেই ইরানে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে হামলার একমাস পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে আমেরিকা তার লক্ষ্যপূরণের অনেক কাছে পৌঁছে গিয়েছে। খুব দ্রুতই যুদ্ধ শেষ হবে। তারপরই ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে তীব্র আঘাত করা হবে।
আমেরিকাবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’-র শুরু থেকেই আমরা বলেছি, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। এখন আমরা খুব শীঘ্রই সেই লক্ষ্য পূরণ করতে চলেছি।” একইসঙ্গে ইরানে হামলার চারটি প্রধান লক্ষ্যকে তুলে ধরেন। এই লক্ষ্যগুলি হল ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, ইরানের নৌবাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল করা ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ধ্বংস করে দেওয়া।
এরপরই ইরানের উপর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা ইরানের উপর তীব্র আঘাত আনতে চলেছি। আমরা ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সামরিক শক্তি ভেঙে পড়েছে। বেশিদিন ইরান যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বিমান বাহিনীর হালও এক। বেশিরভাগ শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়েছে। অতীতে মার্কিন যুদ্ধ কতদিন চলেছে, সেই নিয়েও স্মৃতিচারণ করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, “প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলেছে প্রায় ১ বছর ৭ মাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলেছে প্রায় ৩ বছর ৮ মাস। ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলেছে ১৯ বছর। ইরাক যুদ্ধ চলেছে ৮ বছর।” এই যুদ্ধগুলির সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের তুলনা করে তিনি বলেন, “ইরান অভিযান মাত্র ৩২ দিন চলেছে এবং ইতিমধ্যেই বড় সাফল্য এসেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, “ইরানের তেল আমাদের দরকার নেই। তাদের যা কিছু আছে, তার কোনও কিছুরই আমাদের প্রয়োজন নেই। বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকা রয়েছে। মিত্র দেশগুলোর কোনও ক্ষতি আমেরিকা চায় না।” মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি যেমন ইজ়রায়েল, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। শেয়ার বাজার ধসে গিয়েছে। সেনসেক্স-নিফটির পতন হয়েছে। তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।