
তেহরান: হচ্ছেটা কী! হরমুজ কখনও খুলে দিচ্ছে ইরান। কখনও বন্ধ করে দিচ্ছে। শুক্রবারই হরমুজ় খুলে দিয়েছিল ইরান। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল তেহরান। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবারও হরমুজ় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ইরানের দাবি, আমেরিকা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সেকারণেই আবারও হরমুজ় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন আমেরিকা হরমুজ়ে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখবে। তারপরই ইরান আবারও হরমুজ় বন্ধের ঘোষণা করল।
কী বলছে ইরান?
ইরানের সামরিক বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে। তাঁদের বক্তব্য,”আমেরিকা সব জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।” অর্থাৎ হরমুজ়ে আমেরিকা নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে জলপথ বন্ধই থাকবে।
এর আগে লেবানন-ইজ়রায়েলের যুদ্ধবিরতির পর ইরান ঘোষণা করেছিল হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি জানিয়েছিলেন, যতদিন সংঘর্ষবিরতি চলবে, ততদিন হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে। ইরানের সিদ্ধান্তের পর ধন্যবাদও জানান ট্রাম্প। কিন্তু, একইসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌসেনার অবরোধ অব্যাহত থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অবরোধ থাকবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণেই হরমুজ় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
ভারতের জন্যও বন্ধ হরমুজ় প্রণালী?
বিশ্বে মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই সরবরাহ হয়। প্রায় দু’মাস ধরে হরমুজ় বন্ধ থাকার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় প্রভাব পড়েছে। আবার তা বন্ধ করে দেওয়ায় আরও সমস্যায় পড়তে পারে বিশ্বাবাণিজ্য। তবে, দুই মাসের মধ্যে হরমুজ় আংশিকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। ভারত-সহ বন্ধু দেশগুলির জন্য হরমুজ় খোলাই রেখেছিল ইরান। এক্ষেত্রে, ভারতের জন্যও হরমুজ়ের পথ কি বন্ধ করে দেওয়া হল? তা স্পষ্ট করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইরান শনিবার আংশিকভাবে তাদের আকাশপথ খুলে দিয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং কিছু বিমানবন্দরও আবার চালু হয়েছে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। তারপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উদ্বেগ পরিস্থিতি। আপাতত, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি চলছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩ হাজার, লেবাননে ২,২৯০-র বেশি, ইজ়রায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।