
কলকাতা: বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট, তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নয়াদিল্লির দিকে ঝুঁকতে চায় ঢাকা, দিতে চায় বাড়তি ডিজেল আমদানির প্রস্তাব। মঙ্গলেই পাইপলাইন হয়ে অসমের নুমালিগড় তৈল শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে পাঁচ হাজার টন ডিজেল। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত পর্বের জেরে বেড়েছে জ্বালানির চাহিদা, যা দিনশেষে আতঙ্ক করেছে আম বাংলাদেশিদের মনে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে পন্থা খুঁজছে তারেক রহমানের সরকার।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বণিক বার্তার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সরকার দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি একমাত্র আশঙ্কার জায়গা নয়, আতঙ্ক তৈরি হয়েছে খাদ্য সংকট নিয়েও। ওয়াকিবহাল মনে করছে, ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ এই ভাবেই চলতে থাকলে বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের সংকট আসন্ন। আর সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের কাছে একমাত্র পন্থা হতে পারে ভারতের দ্বারস্থ হওয়া।
বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের একটি পরিসংখ্য়ান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি হয়েছে ৯৫৫ কোটি ৫৬ লক্ষ ডলার মূল্যের। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আমদানির পরিমাণ ৯০০ কোটি ২ লক্ষ মার্কিন ডলার মূল্যের। এই মোট আমদানির বেশির ভাগটাই তুলো। যা নিয়ে বিশ্ববাজারে কোনও চিন্তা তৈরি হয়নি। এছাড়াও বাংলাদেশে আমদানি হওয়া খাদ্যপণ্যের একটা বড় অংশ যায় ভারত থেকেই। একদিকে যখন জ্বালানি সংকট নিয়ে চিন্তা তৈরি হয়েছে, সেই আবহে ঢাকার অন্দরে আতঙ্কের জায়গা তৈরি করেছে খাদ্য সংকট। কারণ, জ্বালানি না থাকলে, তৈরি হবে না খাবারও। এই পরিস্থিতি ভারতের থেকেই আরও বেশি জ্বালানি আমদানির প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছে ঢাকা।
এদিন ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ বণিক বার্তাকে বলেন, “দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে কিনা সেটা সময়সাপেক্ষ। তবে এই সংকটের জেরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সুযোগ বাড়়তে পারে। আবার আরও একটি দিক যা ভারতকে ভাবতে হবে, তা হল নিজেদের চাহিদা না মিটিয়ে যদি রফতানি তারা বেশি জোর দেয়, সেক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।”