
ওয়েলিংটন: নিউজিল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে (New Zealand Election) কার্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে। ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী ন্যাশনাল পার্টি এবং বিরোধী লেবার পার্টির মধ্যে ভোটের ব্যবধান এতটাই কম যে, পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শনিবারের নির্বাচনে ৯৫ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা হয়ে গেলেও দুই দলের প্রাপ্ত ভোটের হার ৩০ শতাংশের সামান্য নীচে। ব্যবধান মাত্র কয়েক হাজার ভোটের।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাকসনের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পার্টির তিন দলের জোট ১৩০ আসনের সংসদে ৬৭টি আসন পেতে পারে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬৬টি আসন। অর্থাৎ, আপাতত সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে মাত্র এক আসন বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শাসক জোটের। তবে বিদেশে থাকা ভোটার এবং নিজস্ব নির্বাচনী এলাকার বাইরে থেকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ ভোট গণনা হলে এই হিসাব বদলে যেতে পারে।
অকল্যান্ডে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে লাকসন বলেন, “ন্যাশনাল পার্টি ফের সংসদের বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। পরবর্তী সরকার গঠনের পথ আমাদের সামনে রয়েছে।” তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, “এই মুহূর্তে ফলাফল বলা খুব কঠিন।”
অন্যদিকে, লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্সও চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ। ওয়েলিংটনের কাছে আপার হাটে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিউজিল্যান্ড তাদের মতামত জানিয়েছে। তবে ঠিক কী ফল, তা বুঝতে আমাদের আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।” তাঁর মতে, পরবর্তী সংসদে রাজনৈতিক দলগুলিকে সমঝোতা, সহযোগিতা এবং অভিন্ন অবস্থান তৈরির পথে হাঁটতে হবে। চূড়ান্ত ফলের ভিত্তিতে সরকার গঠনের সুযোগ থাকলে লেবার পার্টি সেই চেষ্টা করবে। অন্যথায় বিরোধী দল হিসেবেই মানুষের হয়ে কথা বলবে তারা।
নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে বিশেষ ভোটের গুরুত্ব যথেষ্ট। বিদেশে থাকা ভোটার এবং নিজেদের নির্বাচনী এলাকার বাইরে থেকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের ভোটও এই পর্যায়ে গণনা করা হবে। অতীতে এই বিশেষ ভোটের বড় অংশ বামপন্থী দলগুলির পক্ষে গিয়েছে। ফলে ন্যাশনাল ও লেবার পার্টির মধ্যে যে সব কেন্দ্রে ব্যবধান খুব কম, সেখানে ফল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংসদে আসন সংখ্যার হিসাবও পাল্টে যেতে পারে। তাতে শাসক জোটের এক আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ছোট দলগুলির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিউজিল্যান্ডে ১৯৯৬ সাল থেকে মিক্সড মেম্বার প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (MMP) পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়। এই ব্যবস্থায় ভোটাররা দুটি ভোট দেন, একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এবং অন্যটি নিজেদের এলাকার প্রার্থীর জন্য। সাধারণত সংসদে ১২০টি আসন থাকে। তবে কোনও দল তার প্রাপ্ত দলীয় ভোটের অনুপাতে যতগুলি আসন পাওয়ার কথা, তার চেয়ে বেশি নির্বাচনী কেন্দ্রে জয়ী হলে অতিরিক্ত আসন যুক্ত হতে পারে। সেই কারণে এবারের নির্বাচনে সংসদের মোট আসন সংখ্যা ১৩০ হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন।