
নয়া দিল্লি: পাকিস্তানের (Pakistan) মাথায় প্রতিনিয়ত ঘুরছে শয়তানি বুদ্ধি। ১৯৭১ সালেই বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) থেকে নির্মূল করে দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের গোপন উপস্থিতি। সেই জায়গাই কি আবার দখল করতে চলেছে পড়শি দেশ? বঙ্গোপসাগরে ঠিক কী প্ল্যান পাকিস্তানের?
পাকিস্তানের প্রথম হ্যাঙ্গর ক্লাস সাবমেরিন এবার বঙ্গোপসাগরে নামতে পারে। গত এপ্রিলেই চিনে এই সাবমেরিন কমিশনড হয়। গত সপ্তাহে তা পাকিস্তানের হাতে এসে পৌঁছেছে। তারপরই পাকিস্তান নৌসেনার আধিকারিকরা তা জলে নামানোর পরিকল্পনা করছে।
পাক সূত্রে খবর, এই সাবমেরিন দিয়ে বঙ্গোপসাগরে নজরদারি চালানোর চেষ্টা করতে পারে পাকিস্তান। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে হারের পর থেকেই এই অঞ্চলে কার্যত পাকিস্তানের অস্তিত্ব নেই। কিন্তু নিজেদের সীমানা পেরিয়ে ভারতের কাছে ফের একবার অস্তিত্ব তৈরির চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
হ্যাঙ্গর (Hangor) নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’-কে ডুবিয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর সেটিই ছিল প্রথম ঘটনা ছিল যেখানে যুদ্ধের সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর কোনও যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। এটি পাকিস্তান নৌবাহিনীর অন্যতম আলোচিত আক্রমণ ছিল। তবে আইএনএস খুকরি ডুবে গেলেও, তা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ফলাফলে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। পাকিস্তান সেই বার বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়। জল, স্থল ও আকাশপথে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি সেনাকে পরাজিত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সাহায্য করেছিল।
১৯৭১ সালের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ৫৫ বছর পর আরেকটি পাকিস্তানি ‘হ্যাঙ্গর’ আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানের এই নতুন সাবমেরিন জলে নামানোর প্ল্যানও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখন পাকিস্তান-বাংলাদেশের সখ্যতা বেড়েছে। দুই পড়শি দেশের মধ্যে সামরিক সম্পর্কও উন্নত হয়েছে ইউনূস আমলে।
১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর, পাকিস্তানের নৌবাহিনীর আনাগোনা মূলত উত্তর আরব সাগরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। হাসিনা সরকারের পতনের পর পাকিস্তান আবার বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে শুরু করেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দুইবার বৈঠক করেছেন এবং পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দর-ও ঢাকা সফর করেছেন।
ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। ইন্দো-প্যাসিফিক বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে এই জলভাগের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে।
ভারতের জন্য বঙ্গোপসাগর দীর্ঘকাল ধরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা। বঙ্গোপসাগরে ভারত সবসময়ই ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের ‘ইস্টার্ন নেভাল কমান্ড’ অবস্থিত। এটি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি ব্যবসার জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কলম্বো-র সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মর্নিং’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবমেরিনটিকে পাহারা দিয়ে পাকিস্তানে নিয়ে আসার দায়িত্বে থাকা কমান্ডার ওমর ফারুক বলেছেন যে এই হ্যাঙ্গর সাবমেরিনের দৌলতে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পৌঁছানোর ও সেখানে উপস্থিতি বজায় রাখার ক্ষমতা পাবে।
এই সাবমেরিনটিকে “গেম চেঞ্জার” হিসাবেই বর্ণনা করছে পাকিস্তান। সূত্রের খবর, পাকিস্তান এই শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন নিজেদের নৌবাহিনীতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে।
নতুন এই হ্যাঙ্গর সাবমেরিন আসার আগে পাকিস্তানের কাছে পাঁচটি সাবমেরিন ছিল। চিনের তৈরি এই নতুন সাবমেরিনগুলি পাকিস্তানের পুরোনো ‘অগোস্তা’ (Agosta) সাবমেরিনের জায়গা নেবে।
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরের উপরে কোনও একক দেশের অধিকার নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একটি দেশের উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২২ কিমি) পর্যন্ত এলাকায় সেই দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব থাকে। আর ২০০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৩৭০ কিমি) পর্যন্ত এলাকাকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) বলা হয়। এর বাইরের অংশটি হল আন্তর্জাতিক জলসীমা, যেখানে বিদেশি সামরিক জাহাজগুলিও স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে।