Putin vs Trump: আমেরিকার সঙ্গে নিউক্লিয়ার যুদ্ধ হলে পুতিনের বাজি সাক্ষাৎ ‘শয়তানের দূত’!
আমেরিকার সঙ্গে টানটান উত্তেজনার আবহে রুশ প্রেসিডেন্টের এভাবে পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার খতিয়ে দেখা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। শুধু নতুন অস্ত্র খতিয়ে দেখায় নয়, একইসঙ্গে পুতিন এদিন তিনদিক থেকে পরমাণু হামলার প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন। নির্দেশ দিলে কত দ্রুত হামলা করতে পারবে সেনা, দেখে নেন সেটাও। সেনার কাছে জানতে চান, ন্যাটোর নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে বেলারুশে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের কাজ কতদূর এগিয়েছে।

পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট? কার সঙ্গে? আমেরিকা না ন্যাটো? ট্রাম্পের সঙ্গে ৯০ মিনিটের টেলিফোনিক আলোচনার পরেই রনং দেহি মেজাজে পুতিন। পরমাণু যুদ্ধ হলে মস্কো কতটা প্রস্তুত? রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থার দফতর সশরীরে ঘুরে দেখলেন পুতিন। খতিয়ে দেখলেন, ত্রিমুখী পরমাণু হামলা চালানোর নির্দেশ দিলে মস্কো কত দ্রুত সে কাজ করতে পারবে!
মস্কোতে বেনজির দৃশ্য। খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হাজির রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম স্টেট্ অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন গ্লোবালের দফতরে। তার আগে ৯০ মিনিট ফোনে কথা বলেছেন মারিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে। আলোচনার বিষয়বস্তু মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত, জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র। সেই আলোচনা কি পুতিনের মনের মতো হয়নি? নইলে কেন ‘ওরেশনিক মিসাইল’ কতক্ষণে হামলা চালাতে পারবে, বা প্রলয় ঘটানোর মতো ‘অ্যাপোক্লিপস ওয়েপন’ কতটা তৈরি হয়েছে, কেন খোঁজ নেবেন? আর শুধুই হামলা চালাতে পারে এমন সব অস্ত্রই নয়, পরমাণু হামলা হলে দেশবাসীকে বাঁচাতে পারবে যে ‘নিউক্লিয়ার শিল্ড’ ,খতিয়ে দেখলেন তার সক্ষমতাও। পুতিনের পর্যবেক্ষণের পর সংস্থার সিইও জানালেন, রাশিয়ার ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ ৯৯% তৈরি। মানে, জল, স্থল ও আকাশ থেকে হামলা চালাতে প্রস্তুত রুশ মারণাস্ত্র। কোন কোন অস্ত্র তৈরি রেখেছে রাশিয়া?
1. বুরেভেস্তনিক মিসাইল – মাটি থেকে হামলা করবে। পরমাণু হামলায় সক্ষম। যতদূরে খুশি, হামলা চালাতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ১৪ হাজার কিলোমিটার উড়তে পারে একটানা। মিসাইলের ভিতরেই ছোট পরমাণু চুল্লি থেকে জ্বালানি পায়। নিচুতে ওড়ে, তাই রেডারে ধরা পড়ে না। ২০২৫-এর অক্টোবরে সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে লেটার মার্ক্স্ নিয়ে পাশ করেছে। ন্যাটো এই মিসাইলকে স্কাইফল বলে ডাকে। পুতিন একে বলেন, ইনভিনসিবল।

2. ওরেশনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল – হাইপারসোনিক স্পিডে, শব্দের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুত ছোটে। আধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে এর গতিকে হার মানিয়ে আটকানো প্রায় অসম্ভব। প্রায় ৬০০০ কিলোমিটার একটানা উড়ে পরমাণু হামলা চালাতে পারে। এরকমই একটি মিসাইলকে ২০২৬-এর জানুয়ারিতে নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ছাড়া ইউক্রেনে ফেলা হয়েছিল।

3. পোসেইডেন আন্ডারওয়াটার ড্রোন – গতবছরের শেষদিকে পুতিনের তত্ত্বাবধানে ১০০ মেট্রিক টনের পোসেইডেন আন্ডারওয়াটার ড্রোনের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপন হয়। পরমাণু অস্ত্র বহনকারী, পরমাণু জ্বালানি চালিত এই ড্রোন সুনামি ডেকে আনতে পারে। শত্রুর বন্দরকে নিশানা করতে পুতিনের নয়া হাতিয়ার। গভীর সমুদ্রেও ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে যেতে পারে। বিস্ফোরণের ক্ষমতা ২ মেগাটন।

4. সরমত আইসিবিএম বা সাক্ষাৎ শয়তান – রাশিয়ার সবচেয়ে ভারী ও নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল। সোভিয়েত জমানায় যে মিসাইলকে শয়তান বা যমদূত বলে ডাকা হত, পুতিন সেই সরমত মিসাইলের আধুনিকীকরণ করেছেন ক্ষমতায় এসেই। ২০২৬-এর জানুয়ারিতে পরীক্ষার পর রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে এই সুপার হেভি মিসাইল। প্রতি ঘণ্টায় ২৫ হাজার কিলোমিটার বেগে ২০৮ মেট্রিক টনের বিস্ফোরক নিয়ে ১৮ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। এক মেরু থেকে অন্য মেরুতে হামলা করতে পারে দূরপাল্লার এই মিসাইল। আমেরিকা বা ন্যাটো-র ডিফেন্সের একে আটকানোর ক্ষমতা নেই।

আমেরিকার সঙ্গে টানটান উত্তেজনার আবহে রুশ প্রেসিডেন্টের এভাবে পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার খতিয়ে দেখা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। শুধু নতুন অস্ত্র খতিয়ে দেখায় নয়, একইসঙ্গে পুতিন এদিন তিনদিক থেকে পরমাণু হামলার প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন। নির্দেশ দিলে কত দ্রুত হামলা করতে পারবে সেনা, দেখে নেন সেটাও। সেনার কাছে জানতে চান, ন্যাটোর নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে বেলারুশে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের কাজ কতদূর এগিয়েছে। ৯ মে মস্কোতে ভিক্ট্রি ডে পালিত হবে ধুমধাম করে। তার আগে ইউক্রেন হামলা চালাতে পারে, সতর্ক করেছেন রুশ বাহিনীকে।
