
মস্কো: ভ্লাদিমির পুতিন যে ভোটে ছিলেনই না, সেই ভোটে কি রুশ জনগণ তাঁর পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দিতে পারেন? নামটা যখন ভ্লাদিমির পুতিন, তখন তিনি অনেক কিছুই পারেন। অনেক অঙ্ক, অনেক খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারেন। সেটা তিনি দিলেনও। পুতিনের ঘোষণা, ডুমা স্টেট ইলেকশনে রাশিয়ার জনগণ তাঁর সরকারের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। ইউক্রেন নীতির পক্ষে রায় দিয়েছে।
পুতিন যখন ভোটের রায়ে নিজের সিলমোহর লাগানোর ঘোষণা করছেন, তখন ইউক্রেনের উপর লাগাতার ড্রোন হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। দু-দিন আগে প্রায় এক হাজার ড্রোন নিয়ে রাশিয়ার উপর হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন। গতকাল থেকে কার্যত তার বদলা শুরু করল রুশ সেনা। ৪৫০ আসনের দুমায় পুতিনের পার্টি ইউনাইটেড রাশিয়া ৩৫৫ আসন পেয়ে সুপার- মেজরিটি দখল করেছে। রাশিয়ায় দুমার নির্বাচনে এত বেশি আসন আর কেউ কখনও পায়নি। পুতিনের পার্টি প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে রুশ কমিউনিস্ট পার্টি। ওদের ভোটের হার অনেক কম। কম-বেশি ১৪ শতাংশ। ভোট প্রাপ্তির হিসাবে ৪ নম্বরে থাকলেও নিউ পিপল পার্টি দুমায় ২০টি আসন জিতেছে। পুতিনের প্রবল সমালোচক ধনকুবের অ্যালেক্সি নেচায়েভের তৈরি দলটা এক ডজন আসনে পুতিনের প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়াজুড়ে কোনও ভোট হল।
তাই পুতিন যে একে নিজের প্রতি জনসমর্থন হিসাবে দেখাবেন, তাতে আর আশ্চর্য কী? ভোটের ফলাফল বলছে, রাশিয়ায় পুতিনের সমর্থন, আস্থা প্রতিদিন বাড়ছে। এমনিতেই রাশিয়ায় সমস্যার শেষ নেই। তারপর ইউক্রেন যুদ্ধ অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে। দেশে ৮ শতাংশ মানুষের হাতে চাকরি নেই। তারপরও ভোটের ফলে সেসব কিছুর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ভোটটা ঠিক মতো হচ্ছে তো? নাকি পুতিনের রাশিয়ায় ঠিকঠাক ভোট বলতে কোনওদিনই কিছু হয়নি!
এর আগে যাই হোক, এবারের ভোট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও বড় কোনও অভিযোগ তুলতে পারেনি। বিরোধী দলগুলো ছোটখাটো অভিযোগ করলেও ভোটের কারচুপি বা জাল ভোটের অভিযোগ করেনি। এর একটাই মানে হয়। পুতিনের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো নেতা এই মুহূর্তে রাশিয়ায় নেই। তাই যাঁরা পুতিনের পার্টিকে পছন্দ করেন না, তাঁরাও পুতিনের জন্য ইউনাইটেড রাশিয়াকেই সমর্থন করছেন।