
প্যারিস: প্যারিসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে দেখতে রীতিমতো ঢল নামলো সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের। প্রবাসী ভারতীয়দের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্যারিসেরও উচ্ছ্বসিত প্রশাংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্যারিসকে আলো ও রঙের শহর বলে অভিহিত করতে গিয়েই বলেন, ভারতীয় প্রবাসীরা এই শহরকে আরও রঙিন করে তুলেছেন। এরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিজের দীর্ঘ যাত্রার কথা তুলে ধরে বলেন, “টানা ১২ বছর ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের সেবা করা আমার জীবনের এক মস্ত বড় সৌভাগ্য। এটি ভারতের গণতন্ত্রের শক্তি, যা একজন চা-বিক্রেতাকে এই শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।”
১২ বছরে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন মোদী। বলেন, গত ১২ বছরে দেশের জিডিপি এবং বিমানবন্দর বা এয়ারপোর্টের সংখ্যা, উভয়ই দ্বিগুণ হয়েছে। এই সময়ে প্রায় ২৫ কোটি ভারতীয় দারিদ্র্যসীমার বাইরে বেরিয়ে এসেছেন।
ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল প্রস্তুতকারক দেশ। বিগত ১২ বছরে দেশে মোবাইল উৎপাদন ইউনিট ১০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানি বেড়েছে প্রায় ৩৫ গুণ। এর ফলে ভারত আজ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে বলে প্য়ারিসে দাঁড়িয়ে জোরালো দাবি করেন মোদী। তিনি বলেন, “ভারত কেবল ভবিষ্যৎ দেখছে না, বরং ভবিষ্যৎকে রূপ দিচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে ভারত আজ এক বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মহাকাশ বিজ্ঞানেও ভারতের একের পর এক সাফল্যের কথাও বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরেন তিনি।”
পাশাপাশি সৌরশক্তির সাফল্যের পর ভারত এখন গ্রিন হাইড্রোজেনে যে বড় বিনিয়োগ করছে তাও বলেন। এছাড়াও বিজ্ঞানীদের তৈরি ‘ফাস্ট ব্রিডার নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর’ ভারতের পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে যে বিপ্লব এনেছে তাও সোচ্চারে বলেন।
এরপরই ভারত ও ফ্রান্সের মেলবন্ধনের কথা উল্লেখ করে মোদী ফুটবলের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সে যেমন ফুটবলের উন্মাদনা রয়েছে, ভারতেও বিশেষ করে ফরাসি ফুটবল দলের বিশাল অনুরাগী রয়েছেন। চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরুর জন্য তিনি ফ্রান্সেক ফুটবল টিমকে আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানান।